আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি কিংবা পছন্দের খাবারটি খাওয়ার আগে ক্যালরি মাপার দুশ্চিন্তা—আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আজ সেই নিয়মের শিকল ভাঙার দিন। আজ ৬ মে, ‘আন্তর্জাতিক ডায়েট-মুক্ত দিবস’। আজ ওজন মাপার যন্ত্রটি আলমারিতে তুলে রেখে নিজের প্রতিবিম্বকে নতুন করে ভালোবাসার এক বিশেষ সুযোগ।
এই দিবসের শুরুটা হয়েছিল এক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। ১৯৯২ সালে ব্রিটিশ নারীবাদী মেরি ইভান্স ইয়ং যখন ডায়েট আর ওজন কমানোর চাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন, তখন তিনি ডাক দেন ‘ডেইচ দ্যাট ডায়েট’ বা ‘ডায়েট ছাড়ো’ আন্দোলনের। নিজের শরীরের গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা আর কঠোর ডায়েটের বিপদ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই এই যাত্রার শুরু। যুক্তরাজ্যে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন আজ বিশ্বজুড়ে এক বিশাল বার্তা দিচ্ছে— শরীর যেমনই হোক, তাকে সম্মান করতে শিখুন।
খাবার দাবার নিয়ন্ত্রণ বা ডায়েটের ধারণাটি বেশ পুরনো। ১৮শ শতকে ডক্টর জর্জ চেইনের হাত ধরে এর শুরু হলেও আধুনিক যুগে তা যেন এক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। টেলিভিশন আর ইন্টারনেটের যুগে আমাদের সামনে এমন কিছু শারীরিক মানদণ্ড তুলে ধরা হয়, যা অর্জন করা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব। ফটো এডিটিং আর ফিল্টারের দুনিয়ায় ‘নিখুঁত’ হওয়ার এই ইঁদুর দৌড় অনেককে মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলছে।
ডায়েট-মুক্ত দিবস আমাদের এই কৃত্রিমতা থেকে বেরিয়ে আসার কথা মনে করিয়ে দেয়।
সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু সেই খাওয়াটা যদি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা শরীরের চেয়ে মনের ক্ষতি বেশি করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারের সাথে সম্পর্কটা হওয়া উচিত আনন্দের। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাস্থ্যের মানে কেবল চিকন হওয়া নয়; বরং মানসিকভাবে শান্তিতে থাকা এবং সব ধরনের শরীরের বৈচিত্র্যকে মেনে নেওয়া।
আজকের এই দিনটি কেবল পেট ভরে খাওয়ার দিন নয়, এটি মূলত আত্মবিশ্বাসের দিন।
আজ অন্তত একটি বারের জন্য ক্যালরি না মেপে পছন্দের খাবারের স্বাদ নিন কিংবা প্রিয় মিষ্টান্নটি মুখে তুলে দিন। নিজেকে ভালোবাসতে কোনো বিশেষ ওজনের প্রয়োজন নেই—এই চিরন্তন সত্যটি মনে করিয়ে দেওয়াই আন্তর্জাতিক ডায়েট-মুক্ত দিবসের মূল কথা।
সূত্র : ন্যাশনাল টুডে