প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে ড্রোন ডেলিভারি সেবা চালু করেছে মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কাউন্টি ডারহামের ডার্লিংটন এলাকায় সীমিত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
তবে অতি-দ্রুত এ পণ্য ডেলিভারি পরিষেবা পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত। যেমন, পার্সেলটির ওজন অবশ্যই ২ দশমিক ২ কেজি বা ৫ পাউন্ডের কম হতে হবে এবং এর আকার হবে জুতার বাক্সের সমান।
‘প্রাইম এয়ার’ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ‘এমকে-৩০’ নামের ড্রোন ব্যবহার করে শুরু হওয়া এ পরিষেবার মাধ্যমে দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন সৌন্দর্য সামগ্রী, ব্যাটারি এবং কেবলস সরবরাহ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহকের ঠিকানা হতে হবে অ্যামাজনের ফুলফিলমেন্ট সেন্টার থেকে ৭ দশমিক ৫ মাইল (১২ কিমি) দূরত্বের মধ্যে।
ড্রোনগুলোর মধ্যে উন্নতমানের সেন্সর বসানো থাকায় চলার পথে আসা যে কোনো বাধা যেমন, কাপড় শুকানোর দড়ি বা অন্যান্য ড্রোন শনাক্ত করতে ও সেগুলোকে এড়িয়ে চলতে পারে। জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ড্রোনটি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে তা সহজেই বুঝতে পারে এবং নিখুঁতভাবে পার্সেলটি ডেলিভারি করতে পারে।
ডেলিভারির সময় পেন, কাগজ, চকলেট বহনকারী ছোটবড় প্যাকেজগুলি গ্রাহকের বাগান বা আঙিনায় প্রায় ১২ ফুট উচ্চতা থেকে নিচে নামিয়ে দেয় ড্রোনটি।
তবে ডারলিংটনের কিছু বাসিন্দার মধ্যে এ ডেলিভারি প্রক্রিয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক গ্রাহক তাদের পার্সেল বাগানে ফেলে দেয়ার চেয়ে হাতে হাতে নেয়াতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড কার্বন বলেন, ‘মানুষ কখনো বলেননি তারা তাদের জিনিস ধীরে পেতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটি বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর মনে করলে করব। এটি একটি ব্যবসা, এবং আমরা বাণিজ্যিকভাবে সক্ষম হওয়ার লক্ষ্যেই এগোচ্ছি।’
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে দুই ঘণ্টারও কম সময়ে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে অ্যামাজন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এ চিত্রটি আরও চমকপ্রদ, যেখানে এরইমধ্যে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে এ পরিষেবা চালু রয়েছে এবং গড়ে কেবল ৩৬ মিনিটের মধ্যেই গ্রাহকরা তাদের পার্সেল হাতে পেয়ে যাচ্ছেন।
অ্যামাজন প্রতি ঘণ্টায় ১০টি পর্যন্ত ড্রোন ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। সেই হিসেবে সোম থেকে শুক্রবার এসব কর্মদিবসে প্রতিদিন তারা প্রায় একশটির মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা রাখে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল পণ্য সরবরাহেই সীমিত নেই। লন্ডনে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত পৌঁছে দেওয়ার কাজে এরইমধ্যে ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ বা এনএইচএস ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছে।
অন্যদিকে, রয়াল মেইল অর্কনির দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পার্সেল পাঠানোর জন্য এ আকাশযানের ব্যবহার শুরু করেছে।