বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে চায় এনসিটিবি। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ বই ছাপার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির চারটি নতুন বইয়ের ছাপা এখনো শুরু হয়নি।
আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ৯৮ শতাংশের বেশি বই ছাপা শেষ হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি ৭১ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। গত দুই শিক্ষাবর্ষে সময়মতো সব বই সরবরাহ করতে না পারার অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বই ২২ কোটির বেশি এবং প্রাথমিক স্তরের বই প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার। বই ছাপা ও সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৯৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ বই।
অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব বই সরবরাহ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তবে প্রাথমিক স্তরে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা একটি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৪ লাখের বেশি বই ছাপার দায়িত্ব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে সামগ্রিক অগ্রগতিতে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
প্রাথমিকের তুলনায় মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফায় দরপত্র হওয়া ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের মধ্যে ৭১ শতাংশের বেশি ছাপা হয়েছে। এসব বইয়ের ৬৫ শতাংশের বেশি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
তবে এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপায় বেশি গুরুত্ব দিতে পারবে। প্রাথমিক স্তরের বই চার রঙে ছাপা হলেও মাধ্যমিকের বই এক রঙে ছাপা হয়। ফলে মাধ্যমিকের বাকি বইগুলোও দ্রুত ছাপানো সম্ভব হবে বলে তাঁদের আশা।
তবে চারটি নতুন বইয়ের ছাপা শুরুই হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বই যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’।
জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি) ইতিমধ্যে বইগুলো চূড়ান্ত করেছে। তবে এখনো এসব বইয়ের ছাপার কাজ শুরু হয়নি। আগামীকাল রোববার বইগুলোর মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির পরই ছাপার কাজ শুরু হবে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, নতুন চারটি বইয়ের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এসব বই ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে বাড়তি তৎপরতা প্রয়োজন হবে।
২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে নতুন পাঠ্যবই দিয়ে আসছে সরকার। তবে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরপর দুই শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে বই বিতরণ করা যায়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাস সাত দিন পর শতভাগ বই সরবরাহ করতে পেরেছিল এনসিটিবি। এর আগের বছর সব বই সরবরাহ করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল। সময়মতো বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হয়েছিল।
এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ বই ছাপা শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে এনসিটিবি। যদিও কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে এতে সামগ্রিক বই বিতরণে সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, এবার যথাসময়েই শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যের নতুন বই হাতে পাবে।