চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় কারাবন্দি এক ব্যক্তিকে আসামি দেখাতে পুলিশের আবেদনের ঘটনা সামনে আসায় তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত।
বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফাহমিদা সাত্তারের আদালত পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফউজ্জামান খানকে শোকজ করেন।
মামলার নথি ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, নুর হোসেন রবিন ওরফে তুষার (২৭) নামের ওই ব্যক্তি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সীতাকুণ্ড মডেল থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২১ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি ছিলেন। অথচ পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় পাহাড়তলী থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
এই অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রবিনকে শোন অ্যারেস্ট দেখাতে পুলিশের আবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে এলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়।
রবিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনি দাস বলেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল কারাগারে ছিলেন- এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের লিখিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তবু জামিন ঠেকাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে নতুন মামলায় জড়ানো হচ্ছে।
আইনজীবীর আবেদনের পর কারা কর্তৃপক্ষ ২৭ জানুয়ারি আদালতকে জানায়, রবিন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত কারাগারে বন্দি ছিলেন। শুনানি শেষে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শোকজ করেন।
এ বিষয়ে এসআই মো. আরিফউজ্জামান খান বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছেন। আদালতের শোকজের জবাবে তিনি সেই নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করবেন।
পুলিশের দাবি, রবিন একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় একজন আসামি কীভাবে থানায় ভাঙচুর ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় জড়িত হতে পারেন-এই প্রশ্নের উত্তর এখন আদালতের ব্যাখ্যার অপেক্ষায়।