তুরস্কের হাতায় প্রদেশের মিউজিয়াম হোটেলে আয়োজিত ‘Türkiye’s Road to COP31: Resilient Cities’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শনিবার (৯ মে) সম্পন্ন হয়েছে। আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (COP31)-কে সামনে রেখে এই বিশেষ আয়োজনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর উদাসীনতা ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.৩৫ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও ভৌগোলিক কারণে দেশটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও প্রয়োজনীয় বৈশ্বিক আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। আসন্ন COP31 সম্মেলনে বাংলাদেশ একটি বিশেষ এজেন্ডা উপস্থাপন করবে, যাতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়।
সম্মেলনে তিনি আরও ঘোষণা করেন, COP31-কে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ ‘ফোকাল পার্সন’ নিয়োগ দেয়া হবে, যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও ঝুঁকির বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।
সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম (Mr. Murat Kurum)-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বৈঠকে তুরস্কের মন্ত্রী বাংলাদেশের পরামর্শ কামনা করে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। আসন্ন COP31 সম্মেলনে তুরস্ক বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়নে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়।
অন্যদিকে, মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফের সঙ্গে বৈঠকে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ৫০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়। জবাবে আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশের চারা উৎপাদন ও নার্সারি ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে দেখার জন্য মালদ্বীপের মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্মেলনের শেষ দিনে কসোভোর পরিবেশ ও অবকাঠামো মন্ত্রী ফিতোরে পকোলি বাংলাদেশের মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কসোভো এখনও জাতিসংঘের সদস্যপদ না পাওয়ায় COP-এ অন্তর্ভুক্ত হতে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করে। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশই প্রথম কসোভোকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে দ্রুতই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সম্মেলনের সমাপনী দিনে ‘হাতায় ঘোষণা’ (Hatay Declaration)-এর মাধ্যমে দুর্যোগ সহনশীল নগর ও টেকসই অবকাঠামো র্গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজন শেষ হয়। প্যানেল আলোচনায় গাম্বিয়া, সিরিয়া এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।