নির্বাচনে ‘জামানত’ শব্দটি অনেকের কাছেই পরিচিত, কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকেরেই পরিষ্কার ধারণা নেই। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে একজন প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় নির্ধারিত একটি অর্থ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা রাখতে হয়—এটাই ‘জামানত’।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ নিয়ম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমানে জামানতের পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা। তবে এটি কোনো ফি নয়; বরং শর্তসাপেক্ষে ফেরতযোগ্য অর্থ।
জামানত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। টাকা জমাদানের প্রমাণ স্বরূপ ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয় প্রার্থীকে। পৌরসভা নির্বাচনে অনধিক ২৫ হাজার ভোটারের এলাকায় ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ হতে ৫০ হাজার ভোটারের এলাকায় ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ভোটারের এলাকার জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং এক লাখের বেশি ভোটারের এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয় নির্বাচন কমিশনে।
কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য জামানত পাঁচ হাজার টাকা।ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ হাজার ৫০০ টাকা আর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে এক হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয়।
জামানত নেয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ রাখা। যাতে শুধুমাত্র গুরুতর ও প্রস্তুত প্রার্থীরাই নির্বাচনে অংশ নেন, সে জন্যই এই বিধান। যদি জামানতের ব্যবস্থা না থাকত, তাহলে অনেকে শুধুমাত্র প্রচারের উদ্দেশ্যে বা খামখেয়ালিভাবে প্রার্থী হতে পারতেন, ফলে ব্যালটপত্রে অপ্রয়োজনীয় ভিড় বাড়ত এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে উঠত। জামানত তাই এক ধরনের ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।
তবে এই অর্থ সব প্রার্থী ফেরত পান না। কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পান, তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট মাত্রার জনসমর্থন প্রমাণ করতে না পারলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে। আর যারা নির্ধারিত ভোটের হার অর্জন করেন, তারা জামানতের টাকা ফেরত পান। এভাবেই নির্বাচনি জামানত প্রার্থীর জনপ্রিয়তার একটি প্রাথমিক মানদণ্ড হিসেবেও বিবেচিত হয়।