দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের টহল দলে অতর্কিত হামলা, ২ শান্তিরক্ষী নিহত

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের একটি টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। সশস্ত্র ব্যক্তিদের চালানো এ হামলায় জাতিসংঘের দুই শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিন শান্তিরক্ষী। এ ছাড়া দক্ষিণ সুদানের দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং মিশনের সঙ্গে যুক্ত দুই বেসামরিক কর্মীও আহত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, হামলায় নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিচয় ও তারা কোন দেশের নাগরিক তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশন (ইউএনএমআইএসএস) সোমবার (২৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জংলেই প্রদেশের পাজুতের দিকে যাওয়ার সময় একটি টহল দলের ওপর সশস্ত্র ব্যক্তিরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এমন সময় এই হামলা হলো, যখন দেশটি আবারও পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন জানিয়েছে, এলাকাটি নিরাপদ রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার জন্য তারা একটি ‘কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স’ মোতায়েন করেছে।

মিশনের প্রধান আনিতা কিকি গবেহো বলেন, ‘দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা ইউএনএমআইএসএসের সদস্যদের লক্ষ্য করে এমন প্রাণঘাতী সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

আল জাজিরা বলছে, এ বছর দক্ষিণ সুদানে মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মানবিক সহায়তাকর্মী ও তাদের স্থাপনার ওপর ৪৫০টির বেশি হামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে যত হামলা হয়েছিল, এবার তা দ্বিগুণেরও বেশি। এসব হামলায় অন্তত ৩৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে নিহতের এই সংখ্যা ছিল ৩১।

কয়েক মাস ধরে সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিরোধী নেতা রিক মাচারের অনুগত বাহিনীর সংঘাত চলছে। এর মধ্যেই এই সহিংসতা আরও তীব্র হয়েছে।

একসময় দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাচার। গত বছর তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মুখোমুখি। তবে মাচারের দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের সঙ্গে ২০১৮ সালে মাচারের করা ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। ফলে দক্ষিণ সুদান আবারও পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ আট বছর আগে এমন পরিস্থিতি এড়াতেই ওই চুক্তি করা হয়েছিল।

এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে সংঘাত আরও বেড়ে যায়। সে সময় বিরোধী বাহিনী জংলেই প্রদেশে সরকারি বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান দখল করে নেয়। এর জবাবে সরকার বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। তবে একই সময়ে সরকার দাবি করে আসছে, তারা ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির প্রতি এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কির ও মাচারকে আলোচনায় বসানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটি ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, ‘শান্তি ধরে রাখতে এবং গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে অবিলম্বে সংলাপে ফিরতে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’

 

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় পেছালো

টানা তৃতীয় দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম, আড়াই লাখ ছুঁইছুঁই

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: বাড়তে পারে ওষুধের দাম

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের টহল দলে অতর্কিত হামলা, ২ শান্তিরক্ষী নিহত

শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ, ১১ বছরের শিশুর সন্তানের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন

তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্বর্ণের দাম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কীভাবে এসব হাসপাতালের অনুমোদন দেয়?

কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

১০

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

১১

পানি-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মার্কিন বিনিয়োগ চান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

১২