৮ অভিযোগের মধ্যে যেগুলোতে সাজা পেলেন ইনু

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই জন্য তাকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাকে খালাস দেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় দেন। এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুকে আজ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ষষ্ঠ মামলার রায় ঘোষিত হলো।

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগ হলো :

প্রথম অভিযোগ: ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক অ্যাখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচণা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ: ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ: আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ: গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ: ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সপ্তম অভিযোগ: শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।

অষ্টম অভিযোগ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ।

 

 

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫ মাসে লোডশেডিংয়ের সব রেকর্ড ভেঙেছে সরকার: নাহিদ

দুদিনের সফরে আগামী সপ্তাহে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

চলতি অর্থবছরেই সিটি করপোরেশনসহ ৫ নির্বাচন

মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে আরেকটি দাপুটে দিন বাংলাদেশের

দক্ষিণ সুদান ও আবেই মিশন পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

নেত্রকোনায় গোরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ৫৬

চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৭

তিন দফা বাড়ার পর কমলো স্বর্ণের দাম

১০

চট্টগ্রামে গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ চালকদের

১১

আল কায়েদা বাংলাদেশে ‘নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে: জাতিসংঘের প্রতিবেদন

১২