বিশ্বকাপে আবারও ইতিহাস লিখলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের এই তারকা বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন। একইসঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে তৃতীয় হতে পারেনি ফ্রান্স। তবে দল হারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন এমবাপ্পে।
ম্যাচের শুরুতে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্রান্স। এরপর ৪৮তম মিনিটে ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন এমবাপ্পে। ৬৭তম মিনিটে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে স্কোরলাইন ৪-৩-এ নিয়ে আসেন তিনি।
এই জোড়া গোলে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২, যা তাকে নিয়ে যায় সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। ২০১৮ সাল থেকে তিন বিশ্ব আসরে ২২ ম্যাচে গোলগুলো করেছেন তিনি। এতদিন ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ছয় বিশ্ব আসরে ৩৩ ম্যাচ থেকে গোলগুলো করেছেন তিনি। স্পেনের বিপক্ষে সোমবারের ফাইনালে তার সামনে আবারও রেকর্ড পুনর্দখলের সুযোগ রয়েছে।
তবে শুধু সর্বকালের গোলের রেকর্ডই নয়, চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এগিয়ে গেছেন এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোলের পর তার টুর্নামেন্টে গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০। অন্যদিকে ফাইনালের আগে মেসির গোল ৮। ফলে গোল্ডেন বুট জিততে হলে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে অন্তত দুই গোল করে এমবাপ্পের সমতায় ফিরতে হবে মেসিকে। সমান গোল হলে টুর্নামেন্টের অন্যান্য টাইব্রেকিং মানদণ্ড বিবেচনায় আসবে।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ধারাবাহিকতা সত্যিই ঈর্ষণীয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি। সেই আসরের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করলেও টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে শিরোপা হারাতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। এবারও দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দেখালেও দলকে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে পারেননি তিনি। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হয় ফরাসিদের।
যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের হার এড়ানো যায়নি, তবু বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়ে এবং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করার পথে বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।