২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে এতে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি হাতে পায় প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের মামলার অগ্রগতি জানতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এসেছেন দলটির শীর্ষ নেতাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল। রোববার সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন তারা।
কুরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল, ধর্মের অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এরপর সারাদেশ থেকে মাদরাসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জড়ো হতে থাকেন রাজধানীর চারটি পয়েন্টে। একদিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হলেও অন্যদিকে রাজধানীর প্রত্যেকটি পয়েন্ট দাঁড়িয়ে থেকে সমাবেশে যেতে বাধা দেয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে দিনভর হেফাজতের সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ চলে। পরবর্তীতে রাতে বিদ্যুৎ বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। যদিও বরবরাই তা অস্বীকার করে এসেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্তের আবেদন জানায় হেফাজতে ইসলাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই যার তদন্ত শেষ করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আলোচিত এ মামলায় বর্তমানে ৪ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।