জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। এ সময় অস্কারজয়ী অভিনেতা ও রাজনীতিবিদসহ অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ যুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানান।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আয়োজিত নেতানিয়াহুবিরোধী এই বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী হান্না আইনবাইন্ডার, ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসেও রয়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া ইরানি ও ইহুদি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান বলেন, ‘গাজায় যা করা হচ্ছে, একটি পুরো সমাজকে ধ্বংস করা হচ্ছে—আমাদের নামে, আমাদের করের টাকায়। এর বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। আর এসব নৃশংসতাকে বৈধতা দেয়ার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহারের কোনো অধিকার নেতানিয়াহুর নেই।
অবশ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার সময় নেতানিয়াহু পুরো অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন। আবার ইসরায়েলে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তিনি হেরে যেতে পারেন। এর আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। এ সময় সাধারণ পরিষদের হল থেকে বহু প্রতিনিধি বেরিয়ে যান।
ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কাজ করা ইহুদি অধিকারকর্মী সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। প্রায় ২০০ মানুষ জাতিসংঘের বাইরে জড়ো হন। তাদের সবার পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট। এসব টি-শার্টে লেখা ছিল—‘বোমা নয়, মানুষের জন্য অর্থ দিন’, ‘যুদ্ধ নয়’ এবং ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন’।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ মাইক ব্যবহার করে তাদের সেখান থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়। কয়েকজন ফুটপাতে চলে গেলেও মূল দলের বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় বসে থাকেন এবং নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলেন।
একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা একজন একজন করে বিক্ষোভকারীদের দল থেকে টেনে বের করেন। এরপর তাদের হাত পেছনে নিয়ে জিপ টাই দিয়ে বেঁধে পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ বাসের বাইরে দাঁড়িয়েও বিক্ষোভকারীরা ‘নেতানিয়াহু নরকে যাও’ স্লোগান দিতে থাকেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ।
গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে আসছে। এসব ঘটনায় আরও ১ হাজার ৪০৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৯১৬ জন আহত হয়েছেন।