মুদি বাজারে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য কমিয়ে স্থানীয় কৃষক ও খাদ্য উৎপাদকদের শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা সরকার। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কৌশলের আওতায় আগামী ১০ বছরে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ৪০টি স্থানীয় ফুড হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে দেশটির খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা ও কৃষি বাজারে বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কানাডার মুদি বাজারে যত পণ্য বিক্রি হয় তার প্রায় ৭৫ শতাংশই মাত্র পাঁচটি বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে কৃষকেরা অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন এবং বাজারে প্রতিযোগিতাও সীমিত হয়ে পড়ে।
এই বাস্তবতার উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডের (পিইআই) কৃষক রোজ ভিয়েনের অভিজ্ঞতা। প্রায় ২০ বছর আগে তিনি ও তার স্বামী ডেভিড ভিয়েনে লোকসানে বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে রসুন বিক্রি না করে পুরো ফসল নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
রোজ ভিয়েনে জানান, একসময় তাদের উৎপাদিত রসুন আটলান্টিক কানাডার বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি সোবেস ও রিয়েল কানাডিয়ান সুপারস্টোর-এর মতো বড় খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রেও বিক্রি হতো। কিন্তু পরে চীন থেকে কম দামে রসুন আমদানি শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়।
তার ভাষ্য, বড় খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পাউন্ড রসুনের দাম দিতে চেয়েছিল মাত্র ৫০ সেন্ট, অথচ উৎপাদন খরচ ছিল প্রতি পাউন্ড ৭ ডলার। তাই লোকসানে বিক্রি না করে তারা পুরো ফসল ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বড় করপোরেট ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু ওই দামে বিক্রি করলে শুধু লোকসানই হতো।’
এদিকে ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের সভাপতি জেন পফেনিং বলেন, কানাডার প্রায় সব কৃষকই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। তার মতে, অল্প কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় কৃষকদের দরকষাকষির সুযোগ খুবই সীমিত।
তিনি বলেন, বড় খুচরা বিক্রেতারাই কার্যত কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের প্রস্তাবিত স্থানীয় ফুড হাব কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করতে এবং বড় খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এই উদ্যোগের ফলে ভোক্তাদের খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে কি না, সে বিষয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জন্য আরও টেকসই বাজার গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।