বাংলাদেশে পুষ্টি উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে যৌথ উদ্যোগে তৈরি নতুন পুষ্টি সমাধান ‘পুষ্টিগ্রো+’ উন্মোচন করেছে নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন-২০২৬-এ নেসলে বাংলাদেশ তাদের প্যাভিলিয়নে বিসিএসআইআরের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ভাবিত এই পুষ্টি সমাধানটি প্রদর্শন করে।
নেসলে বাংলাদেশ জানায়, এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পুষ্টি উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সহযোগিতার মাধ্যমে তৈরি ‘পুষ্টিগ্রো+’ একটি সিরিয়ালভিত্তিক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পুষ্টি সমাধান, যা পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, নেসলে বাংলাদেশ ও বিসিএসআইআরের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি এই পুষ্টি সমাধান দৈনন্দিন ঘরে রান্না করা খাবারের সঙ্গে সহজেই মিশিয়ে খাওয়া যায়। এতে প্রোবায়োটিক, আয়রন, জিংক এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন রয়েছে, যা শিশুদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা নেসলে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা এই উদ্ভাবনী পুষ্টি সমাধানের প্রশংসা করেন বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ডা. সামিনা আহমেদ বলেন, 'বিসিএসআইআরের বৈজ্ঞানিক দক্ষতা এবং নেসলের বৈশ্বিক পুষ্টি বিষয়ক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছি। এমন সহযোগিতা বেসরকারি ও সরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।'
নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীপাল আবেউইক্রেমা বলেন, 'বিসিএসআইআরের সঙ্গে আমাদের যৌথ উদ্যোগের ফসল ‘পুষ্টিগ্রো+’, যা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সাশ্রয়ী সমাধান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতি মোকাবেলায় আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।'
তিনি আরও বলেন, 'টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
নেসলে বাংলাদেশ জানায়, বাংলাদেশ যখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ এবং দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক মূল্য সৃষ্টি করতে সহায়তা করবে।