আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা পাকিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কয়েক মাসের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ‘খোলা যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। 

বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা কাবুল ও কান্দাহার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ও যুদ্ধবিমান চলাচলের খবর দিয়েছেন। তালেবান সরকারের দক্ষিণাঞ্চলীয় শক্ত ঘাঁটি কান্দাহারেও জেট বিমানের শব্দ শোনা গেছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে ‘আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানা হয়েছে। 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ একে ‘সর্বাত্মক মুখোমুখি সংঘর্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। এখন আমাদের মধ্যে খোলা যুদ্ধ চলছে।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী ‘যেকোনো আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।

ইসলামাবাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। তার আগেও আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার জেরে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছিল। সর্বশেষ অভিযানের মাধ্যমে সেই উত্তেজনা সরাসরি সামরিক মুখোমুখিতে রূপ নিল।

সাম্প্রতিক সহিংসতায় উভয় পক্ষই কয়েক ডজন সৈন্য নিহত হওয়ার দাবি করেছে।

গত অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে দুই পক্ষের ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর থেকে স্থলবন্দরগুলো বেশির ভাগ সময় বন্ধ রয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কাবুলে কয়েক ঘণ্টা ধরে জেট বিমানের শব্দ, একাধিক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির প্রতিবেদকরা। কান্দাহার থেকেও একই ধরনের তথ্য মিলেছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের বিমান হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তার দাবি, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে মুজাহিদ সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘পুনরাবৃত্ত লঙ্ঘনের’ জবাবে ‘বৃহৎ আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থল অভিযানে তাদের আটজন সেনা নিহত হয়েছেন।

নানগারহার প্রদেশের তথ্যপ্রধান কুরেশি বাদলুন জানান, তোরখাম সীমান্তসংলগ্ন শরণার্থী শিবিরে মর্টারের গোলা আঘাত হেনেছে। এতে সাতজন আফগান শরণার্থী আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের আগের দফার হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। মঙ্গলবারও দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, যদিও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে একাধিক প্রাণঘাতী আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হন; এর দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। একই সংগঠনের আঞ্চলিক শাখা ‘ইসলামিক স্টেট-খোরাসান’ গত মাসে কাবুলের একটি রেস্তোরাঁয় আত্মঘাতী হামলার দায়ও নেয়।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৪৪ কোটি ডলার

পহেলা বৈশাখে বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের যেসব স্টেশন 

ভিজিটর ভিসার মেয়াদ নিয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নতুন বার্তা

হরমুজে সমুদ্রে মাইন আতঙ্ক, কয়েকটিতেই থমকে যেতে পারে বিশ্ব

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক হচ্ছে : প্রণয় ভার্মা

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার

১০

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই: র‍্যাব ডিজি

১১

৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট

১২