দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহরে গোলাবর্ষণের সময় ইসরায়েলি বাহিনী নিষিদ্ধ ফসফরাস গোলা ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নাবাতিয়েহ জেলার জাওতার আল-শারকিয়াহ, মায়ফাদুন ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে ফসফরাস গোলা ব্যবহার করা হয় আল-ফাওকায়। পরে একই ধরনের গোলা দিয়ে জাওতার আল-শারকিয়াহতে আবারও হামলা চালায় ইসরায়েল। এ ছাড়া টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন এবং হারিস ও হাদ্দাতার উপকণ্ঠেও কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়।
এদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা মারজায়ুন ও বিন্ত জবাইল জেলার মাজদাল সেলম ও আল-ঘান্দুরিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের ফেলা দুটি বিস্ফোরিত না হওয়া বিমান থেকে নিক্ষেপ করা বোমা নিষ্ক্রিয় করেছেন। পরে সেগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
ফসফরাস বোমা হলো এমন এক ধরনের সামরিক যুদ্ধাস্ত্র, যা তৈরি হয় অত্যন্ত দাহ্য ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ সাদা ফসফরাস দিয়ে। বায়ুর অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসা মাত্রই এটি নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে এবং প্রায় ৮১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তীব্র তাপ ও ঘন ধোঁয়া তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সাদা ফসফরাস বোমা সরাসরি কোনো রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ নয়, কারণ এটি বিষাক্ততার চেয়ে মূলত তাপ ও আগুনের মাধ্যমে ক্ষতি করে। তবে জেনেভা কনভেনশনের প্রটোকল অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বা বেসামরিক মানুষের ওপর এ ধরনের দাহ্য অস্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত, ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তিতে অধিকৃত লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার, ওই এলাকাগুলোতে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার ব্যবস্থা নেয়ার কথা রয়েছে। তবে সেই চুক্তির পরও অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলের হামলা।