ভারী যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ, ঝুঁকির মুখে করতোয়া সেতু

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত জেলা পঞ্চগড় শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম করতোয়া সেতু। প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত এই সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহনের চাপ অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় এটি এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন ভারী যানবাহনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১০ হাজার যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে।

ভূগর্ভস্থ পাথর-বালু, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে করতোয়া সেতুই প্রধান অবলম্বন। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে সেতুর পাইলিং পয়েন্টসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পণ্য পরিবহন হওয়ায় সেতুটি ধীরে ধীরে তার সক্ষমতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

দেশের পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সীমান্তবর্তী পঞ্চগড় জেলা। এ জেলার ভূগর্ভস্থ পাথর-বালুর দেশের নির্মাণ ও কংক্রিট শিল্পে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এসব পণ্য পরিবহনের চাপ আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ভারী যানবাহন পাথর-বালু নিয়ে করতোয়া সেতু পারাপার হয়।

নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত ওভারলোডেড যানবাহন চলাচল করায় সেতুটির স্থায়িত্বও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প সেতু নির্মাণ করা না হলে উত্তরের এই সীমান্ত জেলার সঙ্গে দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট সড়ক প্রকৌশলীরা।

দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড় সদর এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর বিকল্প সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে শুরু হয়েছে এশিয়ান হাইওয়ে। বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, সমতলের চা, ভূগর্ভস্থ পাথর-বালু এবং জেলার উৎপাদিত খাদ্যশস্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের ক্ষেত্রে করতোয়া সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাইপাস সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি করতোয়া নদীর ওপর দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে জেলার কৃষি অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন, পাথর-বালু ব্যবসায়ী সমিতি, জেলা নাগরিক সমিতি ও জেলা উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকেও বিকল্প সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুটির সক্ষমতা যাচাই করে দ্রুত বিকল্প সেতু নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. শরিফ হোসেন বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর আগে করতোয়া নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যাও কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে পঞ্চগড় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রাখছে। তাই অবিলম্বে এই সেতুর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা করা দরকার।’

পঞ্চগড়ের নবাগত জেলা প্রশাসক কাজী মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতিতে পঞ্চগড় জেলার গুরুত্ব অনেক। সমতলের চা, জেলার পাথর-বালু, পর্যটন, বন্দরসহ বিভিন্ন খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটির বিকল্প হিসেবে করতোয়া নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করা হবে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তাল পদ্মায় নৌকা থেকে ছিটকে ভেসে গেলেন কৃষক

১

আশুগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, অভিযুক্তকে পিটিয়ে পুলিশে দিলো জনতা

২

৩ কেজির রুপালি ইলিশ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি

৩

সরিয়ে দেয়া হলো জাবি ভিসিকে, নতুন ভিসি নূরুল ইসলাম

৪

মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-লুটপাট, মামলায় আসামি ২৫০ জন

৫

ভারী যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ, ঝুঁকির মুখে করতোয়া সেতু

৬

ব্যথা না থাকলেও এই অভ্যাসগুলো নীরবে আপনার ক্ষতি করে

৭

ফ্যাসিবাদী দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুলিশকে পুরষ্কৃত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৮

বেঁচে থাকুক -মা,আকুতি তিশার

৯

বিয়েতে যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি: একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

১০

দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

১১

ভরিতে সোনার দাম কমলো ১৬৯১ টাকা

১২