মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম-এর সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন-কে আসামি করার প্রক্রিয়া চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে স্বতন্ত্র তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
তদন্তে তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে বলেও জানান তিনি। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রসিকিউটর।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে-তিনি বেসামরিক, পুলিশ, র্যাব বা সেনাবাহিনীর সদস্য-যেই হোন না কেন, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল-এর সঙ্গে আসামি ছিলেন চৌধুরী মামুন। ওই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একটি মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া মানেই অন্য ঘটনায় দায়মুক্তি নয়। প্রতিটি অভিযোগ পৃথকভাবে বিবেচিত হবে এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ নীতিও প্রযোজ্য হবে।
এদিকে, শাপলা চত্বরের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।