গ্রীষ্ম এলেই দেশে শুরু হয় তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ আর অস্বস্তিকর আবহাওয়া। এর সঙ্গে লোডশেডিং যোগ হলে জনজীবনে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এই সময়ে সবচেয়ে সাধারণ যে সমস্যাটি দেখা দেয়, তা হলো পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। এটি শরীর ঠান্ডা রাখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও অতিরিক্ত পানি হারালে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং নানা শারীরিক সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যা গুরুতর হয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে।
পানিশূন্যতার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথা ঝিমঝিম করা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং শরীরে শক্তি কমে যাওয়া। এছাড়া ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা চোখে ঝাপসা দেখাও এর লক্ষণ হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে হালকা বমি ভাবও দেখা দেয়।
শরীর পানির অভাবে নিজেই সংকেত দিতে শুরু করে। অনেক সময় আমরা এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দিই না, যা পরবর্তীতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পানি, লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করা উচিত।
তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। কারণ তৃষ্ণা লাগা মানেই শরীরে পানির ঘাটতি শুরু হয়েছে।
গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে আগের দিন থেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। বাইরে বের হওয়ার আগে এক থেকে দুই গ্লাস পানি খেয়ে নেওয়া ভালো। বাইরে থাকাকালেও নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি বা তরল পান করা উচিত।
শুধু পানি নয়, শরীরে লবণের ঘাটতিও পূরণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ঘাম হলে লেবুর শরবতে সামান্য লবণ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। ওরস্যালাইন বা ডাবের পানিও কার্যকর, কারণ এতে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট থাকে।
পানিশূন্যতা বোঝার একটি সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রং পর্যবেক্ষণ করা। হালকা হলুদ রং স্বাভাবিক পানির মাত্রা নির্দেশ করে। তবে রং গাঢ় হলে বুঝতে হবে শরীরে পানির অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত বেশি করে তরল গ্রহণ করা উচিত। তারপরও অবস্থার উন্নতি না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
গরমে সুস্থ থাকতে নিয়মিত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং শরীরের সংকেতের প্রতি সচেতন থাকাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।