কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ৮ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সাতজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

রোববার (০৫ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ১৫, ১১ ও ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

রোহিঙ্গাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরের জামতলী এলাকার ডি ব্লকে পাহাড়ধসে একটি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ মাটিচাপা পড়ে। এতে একই পরিবারের বাবা, মা ও চার বছর বয়সী এক শিশুসহ তিনজন নিহত হন। দুর্ঘটনার সময় ওই আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবারের মোট ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের বাকি সদস্যদেরও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, ১১ নম্বর আশ্রয়শিবিরের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। এছাড়া ৭ নম্বর আশ্রয়শিবিরের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে মো. একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন এবং আহতদের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা গণ্যমাধ্যমে জানান, গভীর রাতে কাছাকাছি সময়ে পৃথক তিনটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং একাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম ও তথ্য যাচাই অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র অন্তত আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই পাহাড়ধসের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় তাদের। বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ঢালে নির্মিত হাজারো আশ্রয়কেন্দ্র ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। টানা বর্ষণে মাটি নরম হয়ে গেলে সামান্য ধসও মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকার ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। দুর্যোগের আশঙ্কায় প্রশাসন ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থা আগাম সতর্কতা জারি করলেও বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী অনেক পরিবারকে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

পরিবার ভেবেছিল মৃত, ২৫ বছর পর স্বজনদের কাছে ফরিদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ

সংশোধন হবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রাম্পের ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়কে আরও বড় করবে

অভিনেত্রী তমার নতুন ইনিংস, এবার ব্যাংকার!

৩৫ বছর পর সংসদ ভবনে চলছে সরাসরি ভোট

চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে পাখি হত্যার ঘটনায বন বিভাগের মামলা

সংসদ সদস্যরা নিজ দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অপেক্ষায় দিল্লি : দীনেশ ত্রিবেদী

১০

বন্যায় স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

১১

দেশের বাজারে স্বর্ণের গহনার দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল কত?

১২