ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছিল তারা। কিন্তু পথেই থেমে যায় চারটি প্রাণ। বগুড়ার শেরপুরের সেই সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে একই পরিবারের চারজনকে। আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে দেড় বছরের একটি শিশুকন্যা- যে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছে।
শিশুটি এখন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ছোট্ট শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, পাশে নেই মা-বাবার সান্ত্বনাময় স্পর্শ। হাসপাতালের শয্যায় সে যেন নীরব এক প্রশ্ন-কেন এমন হলো?
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পৌঁছেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়েও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন। চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা এখন শোকের সাগরে ভাসছেন। যে যাত্রা হওয়ার কথা ছিল ঈদের আনন্দের, তা পরিণত হয়েছে শোকযাত্রায়। রংপুরের কাউনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিহতদের মরদেহ। একসঙ্গে চারজনের জানাজা- একটি পরিবারের জন্য কতটা ভারী, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুটির অবস্থা গুরুতর হলেও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চোখে উদ্বেগ- একটি ছোট্ট প্রাণের জন্য প্রার্থনা।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা শুধু প্রাণই কেড়ে নেয় না, রেখে যায় অগণিত শূন্যতা। এই শিশুটি বড় হয়ে হয়তো জানতে পারবে- একদিন একটি দুর্ঘটনা তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল তার সবচেয়ে আপন মানুষগুলোকে। কিন্তু আজকের দিনে, সে শুধু একটাই গল্প লিখছে- বেঁচে থাকার গল্প।
শোকের ভেতরেও তাই আশার আলো খোঁজেন সবাই। কারণ, একটি জীবন বাঁচলে- সেখানেই নতুন করে শুরু হতে পারে আরেকটি গল্প।