দশম বছরে রোহিঙ্গা সংকট, এখনো অনুকূল নয় প্রত্যাবাসনের পরিবেশ

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের গণ-উচ্ছেদের নয় বছর পরও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সংকট দশম বছরে প্রবেশ করলেও রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন।

২৫ আগস্ট ২০২৬ ‘রোহিঙ্গা সংকট—নয় বছর’ শীর্ষক এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চলমান বাস্তুচ্যুতি ও দুর্ভোগের মধ্যেও তাদের সহনশীলতা, সাহস ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে রাখাইনজুড়ে সংঘাত বাড়ছে এবং মানবিক চাহিদাও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীরতর নিরাপত্তাহীনতা, বেসামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা এবং সাহায্য ও বাণিজ্যের ওপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অবরোধ মানবিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

কূটনৈতিক মিশনগুলো বলেছে, এই অস্থিতিশীলতার কারণে আরও মানুষ বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রার সময় ঘটছে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনাও।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুযোগ দিচ্ছে না। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবিলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কৌশলগত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সফল প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রস্তুত করাও জরুরি।

বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরির পথ খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করেছে কূটনৈতিক মিশনগুলো। ততদিন বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় শুধু মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখাই যথেষ্ট নয়, সহায়তা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, সেটিরও উন্নতি প্রয়োজন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশি ও শরণার্থী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সহায়তা প্রণয়ন ও প্রদানে ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে কূটনৈতিক মিশনগুলো।

রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে তাদের নিজেদের কণ্ঠস্বর থাকা উচিত বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

সংকট দশম বছরে প্রবেশ করায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যেন বিশ্ব ভুলে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক সমর্থন ধরে রাখতে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতি দেয়া দেশগুলো হলো- কানাডা, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কসোভো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কতটা লবণ খেলে বিপদ, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

জাতীয় পতাকার আদলে পোশাক পরে বিতর্কে উর্বশী

দশম বছরে রোহিঙ্গা সংকট, এখনো অনুকূল নয় প্রত্যাবাসনের পরিবেশ

আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় পেছালো

টানা তৃতীয় দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম, আড়াই লাখ ছুঁইছুঁই

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: বাড়তে পারে ওষুধের দাম

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের টহল দলে অতর্কিত হামলা, ২ শান্তিরক্ষী নিহত

শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ, ১১ বছরের শিশুর সন্তানের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন

১০

তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্বর্ণের দাম

১১

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কীভাবে এসব হাসপাতালের অনুমোদন দেয়?

১২