আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত।

নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজনে যুবসমাজকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, জনগণের দেয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হয় না, সেই খুলনার মাঠ, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়ার মাঠসহ সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সব আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক। এই দেশকে আমরা ভালোবাসি। শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আমরা নির্বাচনের ফলাফলকে মেনে নিয়েছি। দেশে একটা গৃহযুদ্ধ যাতে শুরু না হয় সেজন্য আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা কারও চোখ রাঙানিকে পরোয়া করবো না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করবো না। আমাদের নেতৃবৃন্দ ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন জাতির জন্য প্রয়োজনে তোমাদের সেই মুচকি হাসি দিয়ে তৈরি থাকতে হবে।

যুবসমাজের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন। এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়; বরং দুর্নীতি, বৈষম্য, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এ সময় দুর্নীতিমুক্ত, চক্রান্তমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজকে সব অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধী দলীয় এই নেতা বলেন, দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। অতীতে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও দুর্বল করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুশইনের নামে একটি দেশ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। বিজিবি যখন সীমান্তে দাঁড়িয়ে গেছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। কোনো বিদেশি আধিপত্য বা আগ্রাসনের সামনে বাংলাদেশ মাথা নত করবে না।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। সমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার তা থেকে সরে এসেছে। এ সময় গণভোটে জনগণ যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, দলীয়করণ বন্ধ এবং বিচার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। অথচ বর্তমানে সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে সরকার কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে এগোচ্ছে।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এ সময় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে দেশের সংকট আরও গভীর হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য বারবার সংগ্রাম করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পরও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জনগণের রায় ও অধিকারকে সম্মান জানিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ড. অলি আহমদ (বীর বিক্রম) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। অন্যদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) যুগ্ম সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপবৃত্তি সচল রাখতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভ্যালিডেশন করার নির্দেশ

২৩ জুনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার চেষ্টাকারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে

আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন: জামায়াত আমির

মন্ত্রীর দপ্তরে মার্কিন-জাপানি দূত, সচিবের দপ্তরে ভারতীয় দূত

আইজিপির সঙ্গে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশকে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা

ববির বাসা থেকে প্রযোজক গ্রেপ্তারের দাবি মিথ্যা জানালেন নায়িকা নিজেই

বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী

ইকুয়েডরকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

১০

এবার ২৩ জুন নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১১

২৩ জুন পুলিশ সতর্ক অবস্থায় থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২