গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ৭৭০ কোটি টাকা, ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন পরিকল্পনা কমিশনের

ছবি: সংগৃহীত।

জলবায়ু সংকট, নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ধরা হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রকল্পের আওতায় নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসন করা হবে। তাদের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট তিন ধরনের ঘর নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সুপেয় পানি, শিক্ষা সুবিধা, বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা থাকবে। পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা এবং বসতভিটার দলিল হস্তান্তরের কথাও বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবে (ডিপিপি) বছরভিত্তিক ব্যয় বিভাজন সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হলেও আগের পিইসি সভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ডিপিপিতে প্রতিফলিত হয়নি।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বরের পিইসি সভায় প্রশিক্ষণ ও ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বাদ দিয়ে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করেই ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুটি যানবাহন ব্যবহারের কথা থাকলেও পুনর্গঠিত ডিপিপিতে চারটি চুক্তিভিত্তিক গাড়ির জন্য ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এসব গাড়ির ধরন বা প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। গাড়ি ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা হওয়াকেও অযৌক্তিক বলে মনে করছে কমিশন।

ডিপিপিতে অধিকাল ভাতা ৫ লাখ, সম্মানী ভাতা ৩৩ লাখ এবং আপ্যায়ন ব্যয় ২৩ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব ব্যয় কোন কার্যক্রমে ব্যয় হবে, তা স্পষ্ট নয়। প্রচার ও বিজ্ঞাপনে ২০ লাখ, চলচ্চিত্র নির্মাণে ১৮ লাখ এবং আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ক্রয়ে বড় অঙ্কের অর্থ চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ ভাতায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ, আউটসোর্সিংয়ে ১৭ কোটি, নলকূপ স্থাপনে ১২ কোটি এবং ভ্রমণ ব্যয়ে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এমনকি ডেটাবেইস সংরক্ষণেও ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বেশি ধরা হয়েছে এবং ক্রয় পরিকল্পনাও সুনির্দিষ্ট নয়। এসব ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে কমিশন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। নদীভাঙন ও বন্যায় প্রতিবছর নতুন করে বহু পরিবার ভূমিহীন হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৮৭ সালে সরকার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়। এরপর ১৯৮৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৩টি পরিবারকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসন করা হয়েছে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ

সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দল

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৫৩ জন

বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

চুয়াডাঙ্গায় সেই অভিযানে যাওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব; গুলিতে শিশু আহত হওয়ার প্রতিবাদ

টিউলিপ-রূপন্তীসহ হাসিনার আরেক ‎প্লট দুর্নীতি মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি

আমদানি শুল্ক কমল ৬০ শতাংশ, স্মার্টফোনের দাম কত কমবে

বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষে কোন দল এগিয়ে

মাচাদোকে ওয়াশিংটনে ডাকলেন ট্রাম্প, আতঙ্কে কারাকাস

১০

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় কাটছাঁট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কমিয়ে স্থানীয় সরকারে বৃদ্ধি

১১

গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ৭৭০ কোটি টাকা, ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন পরিকল্পনা কমিশনের

১২