এক মাসের ব্যবধানে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বেড়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ১২ কেজির এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। এপ্রিলের শুরুতে তা ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়। এরপর আজ আবারও ২১২ টাকা বাড়ানোয় এক মাসে মোট ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেল সিলিন্ডারপ্রতি দাম।
নতুন ঘোষণায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা, যা আগে ছিল ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা।
এদিকে পরিবহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূল্য ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজির এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা ৭৭৬ টাকা ৫০ পয়সা।
বিইআরসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বিকল্প পথে গ্যাস আমদানিতে সময় ও খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বিমা ও নিরাপত্তা ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে জাহাজভাড়া ও ট্রেডারস প্রিমিয়াম টনপ্রতি ২৫০ মার্কিন ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এপ্রিল মাসের জন্য সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের গড় মূল্য (সৌদি সিপি) টনপ্রতি ৭৮২ দশমিক ৫০ ডলার এবং ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ১৪ পয়সা ধরে নতুন এ দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
যদিও বিইআরসি প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে, তদারকির ঘাটতির কারণে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে- এমন অভিযোগ রয়েছে।