আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ। তবে না খেললেও এদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের থেকে সমর্থন আশা করছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ‘ভাই’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন সালমান। প্রতিবেদন ইন্ডিয়া টুডের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন সালমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বকাপের আগে সালমান আগা বলেন, ‘ওরা আমাদের ভাই। আমাদের সমর্থন করার জন্য তাদের ধন্যবাদ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে খেলতে না দেখা সত্যিই দুঃখজনক। আশা করি, তারা টুর্নামেন্টজুড়ে আমাদের সমর্থন করে যাবে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতে নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দলকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান মাঠে নামবে না। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে কোনো বাধা নেই।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগা জানান, এটি নিয়ে কিছু বলা তাদের এখতিয়ারের বাইরে। তার ভাষায়, ‘ভারতের ম্যাচ খেলা বা না খেলার সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে নেই। এটি সরকারের ও পিসিবির সিদ্ধান্ত। আমরা সেটিকে সম্মান করি এবং তারা যা বলবে, সেটাই অনুসরণ করব।’
নকআউট পর্বে আবার ভারতের মুখোমুখি হলে একই অবস্থান নেয়া হবে বলেও জানান পাকিস্তান অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে আবার ভারতের সঙ্গে খেলতে হয়, সেক্ষেত্রেও আমাদের সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে এবং তাদের নির্দেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আগাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, আগের আসরে তুলনামূলক দুর্বল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের হারের কথা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আগের বিশ্বকাপে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরেছিলাম।
কিন্তু সেটা এখন অতীত। এটি নতুন বিশ্বকাপ, নতুন দল এবং নতুন সমন্বয়। আমরা এটা নিয়ে খুবই রোমাঞ্চিত।’
পাকিস্তান অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ নিয়ে আগা বলেন, এই দায়িত্ব তাকে বিশেষভাবে উজ্জীবিত করছে। তার ভাষায়, ‘এটা আমার প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়ক হিসেবে, তাই অনুভূতিটা আলাদা।
অধিনায়ক হিসেবে আমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই, দলের জন্য সর্বোচ্চটা দিতে চাই এবং এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই নিজের সেরাটা খেলতে পারে।’