বিধানসভায় পরিষদীয় দল আগেই হাতছাড়া হয়েছে। এ বার লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল হাতছাড়া হলো দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অর্থাৎ শেষমেষ লোকসভায়ও ভাঙন ধরল তৃণমূলে। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
মমতার দলের এই ২০ সংসদ সদস্য এরপর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে। বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা সোমবার (৮ জুন) চিঠিও পাঠিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। ওই চিঠিতে তারা নিজেদের জন্য আলাদা আসন বিন্যাস এবং এনডিএ-সমর্থিত ব্লকের সঙ্গে বসার সুযোগ চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, তৃণমূলের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, মোট ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তারা দল না ছেড়েই সংসদের ভেতরে পৃথক একটি গোষ্ঠী গঠন করতে চান।
এর আগে রোববার দিল্লিতে তৃণমূলের একাধিক সংসদ সদস্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান ও জগদীশ বর্মা বসুনিয়াসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সোমবার দিল্লিতে আরও একটি বৈঠকের পর স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেয়া হয়। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠকের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে চিঠি জমা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের দাবি, তারা এনডিএ-সমর্থিত ব্লকের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে চিফ হুইপ এবং শতাব্দী রায়কে উপনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংসদ সদস্য শর্মিলা সরকারের দাবি, ‘আমরা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি ব্লক হিসেবে এনডিএর সঙ্গে থাকব। শতাব্দী রায় আমাদের ডেপুটি লিডার।’
এদিকে এই রাজনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে ঘটছে, যখন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে অংশ নিতে অবস্থান করছেন। ফলে ঘটনাটি দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের বৈঠকের মাঝেই মমতার চূড়ান্ত অস্বস্তি বাড়িয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ালো যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থাকলেন ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরে, কিন্তু তার গোটা দলটাই চলে গেল এনডিএ তথা বিজেপি শিবিরের দখলে। বিজেপি সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে তৃণমূল সংসদ সদস্যদের ৯০ শতাংশেরও বেশি এমপি বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।