ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও পড়েছে: রিজভী

ছবি: সংগৃহত।

ফারাক্কা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ফারাক্কা লংমার্চ দিবসকে বারবার স্মরণে রাখতে হবে, নাহলে নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস ভুলে যাবে। আমরা আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছি। আমরা ভুলে যাচ্ছি বলেই নতুন প্রজন্মও হয়তো কিছুদিন পর জানবে না। তাই এটি তুলে ধরা দরকার।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এবার বড় পরিসরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ ও রিসোর্স পারসনদের নিয়ে বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে, যেন দলীয় নেতাকর্মীরা ইতিহাস ও বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে পারেন। শুধু আলোচনা নয়, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যারা আছেন তাদের বোঝা দরকার আমরা কোথায় আছি এবং কী পরিস্থিতির মধ্যে আছি।

ফারাক্কা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা শুরু থেকেই এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের পানি সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরে ফারাক্কার চুক্তি শেষ হচ্ছে। এটি নবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের পানি সমস্যা এবং ফারাক্কা সমস্যার সমাধান হবে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছেন অভিযোগ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করব না, তবে দাসত্বের শৃঙ্খলেও আটকে থাকব না। তিনি বলেন, পানি সমস্যা, পরিবেশ সমস্যার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সমস্যাও বিরাট আকার ধারণ করছে। যে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিকাশ ঘটছে, সেটি নিয়ন্ত্রণ দরকার।

পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দেশে আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা হলো। এর মধ্য দিয়ে অনেক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। তবে এই ব্যারাজের সুবিধা বাংলাদেশকে পেতেই ২০ থেকে ৩০ বছর লেগে যাবে।

তিনি বলেন, এবার কয়েক বছরের জন্য নয় বরং অনন্তকালের জন্য চুক্তি করতে হবে। ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পানি বণ্টনের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোকেও প্রভাবিত করতে হবে।

গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা বাধ অভিমুখে অনুষ্ঠিত হয়, ঐতিহাসিক লংমার্চ। পানির ন্যায্য বণ্টন ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে মওলানা ভাসানীর সাহসী পদক্ষেপ এখনও দেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

১

মোহাম্মদপুরে শেখেরটেকে বাড়ি দখলের চেষ্টা, রাতে গ্রেফতার আরও ৪

২

জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের সঙ্গে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

৩

গোপনে আবুধাবি সফরে এসেছিলেন নেতানিয়াহু, স্বীকার করল আরব আমিরাত

৪

এনসিডি কর্নারে ওষুধ সংকট, বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

৫

ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

৬

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৩৬

৭

হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এমপি ছানোয়ার

৮

ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া সেই পুলিশ সদস্য ৩ দিনের রিমান্ডে

৯

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ৩২তম পুলিশ সুপার হিসেবে মেহেদী শাহরিয়ারের যোগদান

১০

৬০০ বছরের পুরোনো মসজিদের একাংশ অপসারণ ঘিরে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

১১

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

১২