মৌলভীবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসেই নিয়ম করে যান ৩৫ বছর বয়সী গৃহিণী জহুরা বেগম। দীর্ঘদিন থেকে ভুগছেন হাইপারটেনশনে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রত্যাশা ছিল এবারও এনসিডি কর্নার (অসংক্রামক রোগ কর্নার) থেকে এক মাসের ওষুধ পাবেন বিনা মূল্যে। কিন্তু মিলেছে মাত্র এক পাতা।
দেশের ৪১৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৩০টি জেলা হাসপাতালে ২০১৮ সাল থেকে দেয়া হচ্ছে এনসিডি সেবা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা হলো বেশির ভাগ স্থানেই পাওয়া যায় না প্রয়োজনীয় ওষুধ।
কয়েকজন রোগী জানান, তাদের এনসিডি সেবার জন্য বই করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু দূরদূরান্ত থেকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেও ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এনসিডি কর্নারে নিবন্ধিত উচ্চরক্তচাপের রোগী ৯ লাখের বেশি। আর ডায়াবেটিসের রোগী প্রায় ৭ লাখ ৩১ হাজার; যা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম শর্ত নিয়মিত ওষুধ সেবন। কিন্তু সরবরাহই যদি না থাকে তাহলে এসব রোগ কতটুকু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ডা. হালিমুর রশীদ বলেন, এনসিডি কর্নার চালু রাখার জন্য হসপিটাল ফেসিলিটিসের যে যে ওষুধ দরকার, সেগুলো হসপিটাল ফেসিলিটিস তার নিজস্ব পরিচালনা বাজেট থেকে কিনবে। সে অনুযায়ী আমরা প্রতিটি হাসপাতালকে চিঠি দিয়েছি।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ডা. শামীম জুবায়ের বলেন, যেখানে প্রত্যেক রোগীকে প্রতিমাসে ৩০টি করে ওষুধ দেয়া লাগে, এটার জন্য যদি আলাদা করে বাজেট না থাকে, তাহলে এনএসআর বাজেট দিয়ে একটি হাসপাতালের জন্য খুবই কঠিন হবে ইনডোর ও আউটডোর ম্যানেজ করা।
সরকারি সেবাকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বেন নিম্ন আয়ের রোগীরা।