বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সকল বাবা-মায়ের মধ্যেই উদ্বেগ কাজ করছে। তবে সচেতনতা এবং সঠিকপদক্ষেপ নিলে খুব সহজেই শিশুকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। শিশুদের হাম (Measles) প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরাপদ একটি উপায়। সাধারণত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন মহামারির ঝুঁকি থাকলে বা সংক্রমণ বেশি হলে—সাপ্লিমেন্টারি ডোজ বা ইমারজেন্সি ডোজ দেওয়া যেতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত ডোজও নিরাপদ এবং এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। প্রত্যেক শিশুদের হামের টিকা নেয়া জরুরী।
৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশুকে হামের টিকা দিতে হবে। আগে ২ ডোজ নেয়া থাকলেও নিতে হবে।
হাম হয়ে গেলে ভালো হওয়ার ১ মাস পর হামের টিকা নিবে। যারা ১ ডোজ নিয়েছে এবং এখন বয়স ১০ , ১১ বা ১২ মাস , তারাও এই বাড়তি ডোজ নিবে। পরে ১৫ মাসে আবার নিবে।
শুধু মনে রাখবেন ২ ডোজের মধ্যে ১ মাস গ্যাপ থাকতে পারে। হামের টিকা দুই ডোজ দিলে ৬০ থেকে ১০০ ভাগ রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। অর্থাৎ কারো কারো ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ কার্যকরী হলেও কারো কারো ক্ষেত্রে এটি মাত্র ৬০ ভাগ কার্যকর হতে পারে। কিন্তু আপনার সেহেতু জানা নেই আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রে এটি কতটুকু কার্যকর হয়েছে তাই বাচ্চাকে বাড়তি হামের ডোজ দেয়া উচিত। তাছাড়া সারা দেশ জুড়ে হামের প্রকোপ কমানোর জন্য সারা দেশে প্রায় একই সময়ে ৫ বছরের নিচের সকল শিশুকে হামের টিকা দেয়া উচিত।
লেখক :
ডা.ফয়সল মাহমুদ
এম.বি.বি.এস,
এম.পি.এইচ(এইচ.এম)
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ