ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবটি এগিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত বা খেয়ালখুশি মতো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা খর্ব করতে মার্কিন সিনেটে একটি যুদ্ধ-ক্ষমতা প্রস্তাব (ওয়ার পাওয়ার রেজল্যুশন) পাস হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক ৮০ দিনের মাথায় আনা এই প্রস্তাবটি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানের চার সিনেটরের সমর্থন নিয়ে পাস হয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

বুধবার (২০ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ মে) কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যাবে না— এই মর্মে আনা পদ্ধতিগত প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ৫০টি এবং বিপক্ষে ৪৭টি। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সাথে ট্রাম্পের নিজের দলের চারজন সিনেটর একাত্মতা প্রকাশ করায় প্রস্তাবটি সহজেই প্রথম ধাপ পার করে।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল মার্কিন কংগ্রেসের। আইনপ্রণেতাদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন যে, ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে দিয়ে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছেন, যা সংবিধানের লঙ্ঘন। গত ১ মে এই সংঘাত ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা পার করে। ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধ-ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিন সামরিক অভিযান চালাতে পারেন।

যদিও এর আগে গত ১ মে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরানের সাথে শত্রুতার অবসান ঘটেছে। তবে বাস্তবে মার্কিন বাহিনী এখনো ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং তাদের জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে মার্কিন জাহাজে পাল্টা আঘাত হানছে। ফলে যুদ্ধবিরতির দাবিকে কেবল আইনি ফাঁকফোকর হিসেবে দেখছেন ডেমোক্র্যাটরা।

সিনেটের এই পদ্ধতিগত ভোটে জয় আসলেও প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে এখনো বড় ধরনের আইনি বাধা রয়েছে। ১০০ সদস্যের সিনেটে এটি চূড়ান্ত পাস হওয়ার পর একে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি সভায় (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ) পাস হতে হবে। এরপর এটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হলে ট্রাম্প এতে 'ভেটো' দেবেন তা নিশ্চিত। সেই ভেটো বাতিল করে প্রস্তাবটি আইন হিসেবে কার্যকর করতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বেশ কঠিন।

তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের নিজ দলের সিনেটরদের এই বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে, ইরানের সাথে একটি দীর্ঘস্থায়ী, ব্যয়বহুল এবং সুনির্দিষ্ট কৌশলহীন যুদ্ধ নিয়ে খোদ মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ দানা বাঁধছে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে ২৭ কি.মি. জমি দিলো শুভেন্দুর সরকার

বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব, ভোক্তার বিরোধিতা

বিগত প্রায় ২ দশক উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল বগুড়া: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

অ্যাস্টন ভিলা নাকি ফ্রেইবুর্গ, কে ঘোচাবে শিরোপা খরা?

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবটি এগিয়েছে

কুষ্টিয়ায় এসএসসি পরীক্ষা শেষে গড়াই নদীতে গোসলে নেমে দুই বন্ধুর মৃত্যু

পটুয়াখালীতে সাইবার মামলায় কারাগারে উপ-খাদ্য পরিদর্শক

সরকার পরিবর্তন হলেও গণমাধ্যমের পৃষ্ঠপোষক পরিবর্তন হয়নি: তথ্যমন্ত্রী

কুর্মিটোলা হাসপাতালের নতুন নামকরণ

টিকা বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকারকে ৫টি চিঠি দেয় ইউনিসেফ

১০

রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামির দায় স্বীকার

১১

রাজধানীতে নিখোঁজের ৫ দিনের মধ্যে ২ বছরের শিশুকে উদ্ধার করলো পুলিশ

১২