হিজামা থেরাপি হচ্ছে এমন একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যা শরীরের ব্যথা ও বিভিন্ন রোগের উপশমে ব্যবহৃত হয়। বাংলায় একে শিঙ্গা এবং ইংরেজিতে কাপিং (Cupping) বলা হয়। হিজামা পাঁচ হাজার বছরেরও পুরাতন চিকিৎসা পদ্ধতি। মহানবী (সা.) হিজামা চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং উম্মতদেরকে তা গ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
হিজামা বা কাপিং থেরাপি একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে এখনো বেশ জনপ্রিয়। হিজামা অর্থ হলো, কাপের মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করা। এটি একটি নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি, যা শরীরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়ক।
এ ব্যাপারে আমেরিকান ন্যাচরাল ওয়েলনেস কেয়ারের ইন্টিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান অ্যান্ড আকুপাংচারিস্ট ডা. মো. আশরাফুজ্জামান চ্যানেল 24 অনলাইনকে বলেন, হিজামা থেরাপি শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, শরীরের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
ছাড়া এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে সতেজ ও শক্তিশালী রাখে। হিজামা থেরাপি হলো সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। এটি একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা, যা ব্যথা, মেদ এবং নানা স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলেও জানান ডা. মো. আশরাফুজ্জামান।
যেসব সমস্যায় চিকিৎসা হিজামা কার্যকর:
মাইগ্রেন ও দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ, ডায়াবেটিস (বহুমূত্র রোগ), মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশন, ব্যাক পেইন, ঘাড় ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা (আর্থ্রাইটিস), পক্ষাঘাত, প্যারালাইসিস, সায়াটিকা, ডায়াবেটিস জনিত দুর্বলতা ও রক্তসঞ্চালন সমস্যা, যৌন দুর্বলতা, বাত ও গেঁটে বাত, ঘাড় ও মেরুদণ্ডের ব্যথা, ত্বক ও চর্মরোগ এবং স্থূলতা, খোশপাঁচড়া ও দীর্ঘমেয়াদী।
হিজামা থেরাপি কেন অপরিহার্য:
শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও দূষিত রক্ত অপসারণ
ব্যথামুক্ত, সতেজ ও শক্তিশালী শরীর
ঘুম ভালো হয়, মানসিক প্রশান্তি আসে
লিভার ও কিডনি পরিষ্কার হয়
যৌন দুর্বলতা ও অতিরিক্ত মেদ কমাতে সহায়ক
রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
ত্বক হয় উজ্জ্বল ও পরিষ্কার
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।