আবেগ নয়, ফিটনেস আর ফর্মই মূল মানদণ্ডের ভিত্তিতেই নেইমারকে প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার মতে, চূড়ান্ত দলে জায়গা পাবেন কি না, তা নির্ধারণ করবে খেলোয়াড়দের বর্তমান পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতা। তবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় নেইমার থাকুন বা না থাকুন, লক্ষ্য থাকবে দেশের সেরা দলটাই মাঠে নামানো।
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানান, চোট কাটিয়ে ওঠার পর নেইমার কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ম্যাচে তার ফিটনেসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। তার ভাষায়, সিদ্ধান্তটি কোনো আবেগ থেকে নয়, বরং পুরোপুরি পেশাদার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ১৫-২০ দিনে নেইমার ভালো পারফর্ম করেছেন এবং ম্যাচে তার শারীরিক সক্ষমতাও উন্নত হয়েছে। সব দিক বিবেচনা করেই তাকে প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছে।
ব্রাজিলের এই পোস্টার বয় প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে তার এই প্রত্যাবর্তন হবে কি না, তা নিয়েই এখন চলছে আলোচনা। ১৮ মে চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। এর আগে ফিফার কাছে ৫৫ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল জমা দিয়েছে ব্রাজিল, যেখানে নেইমারের নামও রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
দলের ভারসাম্য, খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রয়োজন অনুযায়ী স্কোয়াড গঠনের বিষয়টি বেশ জটিল বলে মন্তব্য করেন ব্রাজিল কোচ। তিনি বলেন, সব খেলোয়াড় সম্পর্কে তার হাতে থাকা তথ্য অন্য কারও কাছে নেই, তবে তা সত্ত্বেও নিখুঁত দল গঠন করা সম্ভব নয়। লক্ষ্য থাকবে যত কম ভুল করা যায়, তেমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করা।
নেইমারের উপস্থিতি ড্রেসিংরুমের পরিবেশে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলেও আশাবাদী আনচেলত্তি। তার মতে, নেইমার শুধু সমর্থকদের নয়, সতীর্থদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন খেলোয়াড়। তাই তাকে ঘিরে যে পরিবেশ তৈরি হবে, তা ইতিবাচকই থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
খেলোয়াড়দের মতামতকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখলেও সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের বলেও স্পষ্ট করেন ব্রাজিল কোচ। তার ভাষায়, দলে কারা থাকবে সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন এবং এতে বাইরের কোনো চাপ কাজ করবে না। তিনি আরও জানান, নেইমারের বর্তমান পারফরম্যান্স ও ফিটনেসই মূল বিবেচ্য বিষয়, অন্য কিছু নয়।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার আগে নেইমারকে ঘিরে যেমন প্রত্যাশা বাড়ছে, তেমনি ব্রাজিল দলে জায়গা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আনচেলত্তির কঠোর অবস্থান ও ফিটনেস নির্ভর মূল্যায়নই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে, তিন বছরের বিরতির পর বিশ্বকাপে ফিরতে পারবেন কিনা ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।