কুমিল্লায় চর দখল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে টেটাযুদ্ধ, সংঘর্ষ, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা ৩ ঘণ্টাব্যাপী জেলার তিতাস উপজেলার চরবাটেরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, চরের মালিকানা ও দখল নিয়ে মেঘনা উপজেলার আলীপুর এবং তিতাস উপজেলার চরবাটেরা গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে সোমবার দুপুরে জেলার মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের একদল লোক নৌকাযোগে এসে পার্শ্ববর্তী তিতাস উপজেলার চরবাটেরা গ্রামের লোকজনের উপর হামলা করে। এসময় চরবাটেরা গ্রামের লোকজনও পাল্টা হামলা করলে দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তারা আরও জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে প্রত্যেকের হাতেই টেটা, দা ও লাঠিসোটা ছিল। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। আহতদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং মেঘনা উপজেলার আহতরা মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চরবাটেরা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর ভূঁইয়া বলেন, বিনতপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন চল-টেটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নৌকাযোগে নদী পেরিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে হামলা চালায় এবং দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় নারী, পুরুষ ও শিশুদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
তিতাস থানার ওসি মমিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে। পরে মেঘনা থানা পুলিশও সেখানে পৌঁছে। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, দুই থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, সংঘর্ষে আহতদের অধিকাংশই ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সকলেই বাড়ি ফিরে গেছেন এবং দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে।