কিছুক্ষণ পর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিনেই নামবে রাতের অন্ধকার

ছবি: সংগৃহীত

মহাজাগতিক বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করায় চাঁদের প্রচ্ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের পুরো ডিস্ক। ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দিনের আলো কয়েক মুহূর্তের জন্য বদলে যাবে গাঢ় অন্ধকারে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী আজ বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর চাঁদের ছায়া দ্রুত পৃথিবীর ওপর দিয়ে অগ্রসর হবে। এ সময় চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করায় পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে সূর্যকে পুরোপুরি দেখা যাবে না। সূর্যের আলো সম্পূর্ণ আড়াল হয়ে যাওয়ায় সেখানে দিনের বেলাতেও রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসবে।

এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের ছায়াপথ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। আর্কটিক অঞ্চলের উপকূল থেকে শুরু হয়ে এই ছায়াপথ উত্তর মেরুর কাছ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল ও স্পেনের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এসব অঞ্চলের অবস্থানভেদে সূর্য ২০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিটেরও বেশি সময় পুরোপুরি আড়াল হয়ে থাকতে পারে।

পূর্ণগ্রাসের মূল পথের বাইরে ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকেও আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এসব এলাকায় চাঁদ সূর্যের পুরো ডিস্ক ঢেকে ফেলবে না; সূর্যের একটি অংশ দৃশ্যমান থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে এই মহাজাগতিক ঘটনা সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে।

গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে এবারের পূর্ণগ্রাস সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। বিশেষ করে স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাস দেখা যেতে পারে। ফলে সেখানে একই সঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই কারণে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মানুষের কাছে এবারের গ্রহণটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইউরোপের কিছু এলাকায় আবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও অনেক মানুষ ইতিমধ্যে গ্রহণের মূল পথের কাছাকাছি এলাকায় জড়ো হয়েছেন। তবে তাদের অপেক্ষার শেষটা নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। মেঘলা আকাশ বা বৃষ্টি হলে দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও পূর্ণগ্রাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি দেখা নাও যেতে পারে।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবশ্য এই তালিকায় নেই। গ্রহণের মূল পথ উত্তর গোলার্ধের উত্তর আটলান্টিক ও ইউরোপকেন্দ্রিক হওয়ায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চল থেকে এবারের পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেশের আকাশ থেকে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে না।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব স্থানভেদে ভিন্ন হবে। গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথের কাছাকাছি এলাকায় পূর্ণগ্রাস দুই মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণগ্রাসও আড়াই মিনিটের কম থাকবে। কোনো কোনো এলাকায় পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব ২০ সেকেন্ডের মতো সংক্ষিপ্তও হতে পারে।

সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলোকে আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। চাঁদের ছায়ার যে অংশ পৃথিবীর ওপর পড়ে এবং সেখান থেকে সূর্যের পুরো ডিস্ক ঢাকা পড়ে যায়, সেই অঞ্চল থেকেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। আর পূর্ণগ্রাসের মূল পথের বাইরে চাঁদের ছায়ার অপেক্ষাকৃত বড় অংশে সূর্যের কেবল একটি অংশ ঢাকা পড়ে, যাকে আংশিক সূর্যগ্রহণ বলা হয়।

এর আগে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে সেই গ্রহণ দেখা গিয়েছিল। এবার প্রায় দুই বছর পর আবারও পৃথিবীর কিছু অঞ্চলের মানুষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে অবশ্য এমন দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ ছিল। সবশেষ ২০০৬ সালে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। আর স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে সর্বশেষ এমন দৃশ্য দেখা যায় ১৯০৫ সালে। ফলে ১২০ বছরের বেশি সময় পর স্পেনের মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের সামনে আবারও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর খুব সরু একটি পথ তৈরি করে এগিয়ে যাওয়ার কারণেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে দেখা যায় না। মাত্র কয়েক মিনিটের এই মহাজাগতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাই গ্রহণের পথের মধ্যে থাকা এলাকাগুলোতে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। পরিষ্কার আকাশ থাকলে সেখানে দিনের আলো হঠাৎ কমে গিয়ে চারপাশে অস্বাভাবিক অন্ধকার নেমে আসবে, তাপমাত্রায়ও সাময়িক পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে এবং সূর্যের বাইরের আবহমণ্ডলের অংশও দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে সূর্যগ্রহণ দেখার সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের দিকে সরাসরি খালি চোখে তাকানো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আংশিক গ্রহণের সময় অবশ্যই অনুমোদিত সৌরদর্শন চশমা বা নিরাপদ সৌর পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়। পূর্ণগ্রাসের অতি সংক্ষিপ্ত সময় ছাড়া সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো নিরাপদ নয়।

এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশের আকাশে দেখা না গেলেও ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। বিশেষ করে সূর্যাস্তের ঠিক আগে স্পেন ও পর্তুগালের কিছু এলাকায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা এবারের গ্রহণকে করে তুলেছে আরও ব্যতিক্রমী।

 

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিল্লি গিয়ে মোদির সাথে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

রাঙামাটিতে দেড় দশকে ১৩ হাতির মৃত্যু, প্রাণ গেছে ৩৬ জনের

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ২৫৪, ধ্বংসস্তূপে চলছে জীবিতদের সন্ধান

মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

কিছুক্ষণ পর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিনেই নামবে রাতের অন্ধকার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অনিশ্চয়তায় বাড়ছে তেলের দাম

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো ঠিক হয়নি : চিফ হুইপ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশ: বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

১০

অপু বিশ্বাসসহ তিন দেশের শিল্পী নিয়ে ‘শিকার’ শুরু

১১

‘জোর করে কি ফলাফল খারাপ করানো যায়, জোর করে কি পাস করানো যায়’

১২