মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে আজ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। রোববার ৫ এপ্রিল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে এই সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হবে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এরপর বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, সাধারণত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক হয় বৃহস্পতিবার। সে হিসেবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠক আগামী ৯ এপ্রিল।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। যা গত শুক্রবার তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া। যার মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, অর্থাৎ এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকেরা সশরীরে উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস হবে সশরীর।
তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, তারাও মনে করে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া কঠিন। এ জন্য খোলা রেখে কীভাবে সমস্যাটি সমাধান করা যায়, সেই চিন্তা তাদেরও আছে। তবে সিদ্ধান্তটি আসবে মন্ত্রিপরিষদ থেকে।