তুরস্কের সফলতাই পাকিস্তানের সফলতা বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ইস্তাম্বুলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক একই আত্মার দুটি হৃদয় এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিশেষ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুলের ভাহদেত্তিন প্রাসাদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শেহবাজ শরিফ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তুরস্কের সফলতাই পাকিস্তানের সফলতা। পাকিস্তানের অগ্রগতিই তুরস্কের অগ্রগতি।’
উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেহবাজ বলেন, ‘বসফরাসের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও মনোরম শহর ইস্তাম্বুলে আসা সবসময়ই আনন্দের। এখানে ইতিহাস, আধুনিকতা এবং পূর্ব-পশ্চিমের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে।’
তুরস্কের কবি ও দার্শনিক ইউনুস এমরের একটি কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধুর জন্য হৃদয়ই সবচেয়ে সুন্দর ঠিকানা’। শেহবাজ বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের বর্ণনায় এর চেয়ে ভালো কথা আর হতে পারে না। পাকিস্তান সবসময় তুরস্কের মানুষের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে। ঠিক যেমন তুরস্কও প্রতিটি পাকিস্তানির হৃদয়ে বাস করে।’
তিনি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা অভিন্ন ইতিহাস, একই ধর্মীয় বিশ্বাস, পারস্পরিক ত্যাগ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
শেহবাজ স্মরণ করিয়ে দেন, যুদ্ধ, ভূমিকম্প ও বন্যাসহ প্রতিটি দুর্যোগে তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি ২০১০ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় এরদোয়ানের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা গর্ব করে বলি, পাকিস্তান ও তুরস্ক একই আত্মার দুটি হৃদয়’। শেহবাজ জানান, এরদোয়ানের সঙ্গে তার অত্যন্ত বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতায় অগ্রগতিতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুই দেশের পারস্পরিক সদিচ্ছা ৫০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
শেহবাজ আরও বলেন, টার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দান সাইপ্রাস ইস্যুতে পাকিস্তান তুরস্কের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের বৈধ অধিকারের’ প্রতি তুরস্কের নীতিগত ও অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সম্মানই একমাত্র টেকসই পথ। এ বিষয়ে তিনি ও এরদোয়ান আবারও একমত হয়েছেন। এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানকে দৃঢ় সমর্থন দেয়ার জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান শেহবাজ। তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি, সেগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এগুলো আরও বেশি বাণিজ্য, শক্তিশালী বিনিয়োগ, গভীর কৌশলগত সহযোগিতা এবং সর্বোপরি দুই দেশের জনগণের জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।’
শেহবাজ বলেন, তিনি এরদোয়ানকে আশ্বস্ত করেছেন যে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে পাকিস্তান সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
শেষে সুফি কবি রুমির একটি উক্তি তুলে ধরে পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রদীপ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আলো একই’। তার ভাষায়, পাকিস্তান ও তুরস্কের জনগণ একই বিশ্বাস, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অটুট ভ্রাতৃত্বের আলোয় পথ চলেছে।