চোটের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর পেল ব্রাজিল। পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠেছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, নেইমার এখন পুরো ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বেঞ্চে বসে থাকতে মোটেও স্বস্তি পাচ্ছেন না ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ডান পায়ের কাফের চোট নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন নেইমার। সে কারণে টুর্নামেন্টের শুরুতে তাকে খুব সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেছে ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৪ মিনিট মাঠে নামেন তিনি। এরপর জাপানের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে পুরো সময়ই বেঞ্চে ছিলেন। সে সময় আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে নেইমারকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়েই জয় আসায় আর ঝুঁকি নেওয়া হয়নি।
তবে এবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে সব সংশয় দূর করে দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ফোলহা দে সাও পাওলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে এখন শতভাগ ফিট। কতক্ষণ খেলবে, সেটা ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। নিজের শরীরকে কীভাবে সামলাতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। দল যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখনই তাকে মাঠে নামানো হবে।’
নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইতালিয়ান কোচের সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘হ্যাঁ., অবশ্যই পারবে।’
মাঠের বাইরে থাকতে যে নেইমার মোটেও সন্তুষ্ট নন, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন আনচেলত্তি। তবে শিষ্যের পেশাদার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি। ‘সে বেঞ্চে বসে খুশি নয়, কিন্তু অনুশীলনে অসাধারণ পেশাদারিত্ব দেখাচ্ছে। সবাইকে সম্মান করে, সতীর্থদের কাছে খুবই প্রিয় এবং দারুণ বিনয়ী একজন মানুষ। অবশ্যই সে খেলতে চায়, যেমনটা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই চেয়ে এসেছে।’
নেইমার শুরুর একাদশে থাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নে হাসতে হাসতেই আনচেলত্তি বলেন, ‘সে এসে কখনো বলে না, ‘আমাকে খেলাতেই হবে।’ তবে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজই সব বলে দেয়। আমি এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। কোনো বিশ্বমানের ফুটবলারই বেঞ্চে বসে সুখী থাকতে পারে না।’