ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে না যেতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন দেশটির নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। তাঁর দাবি, তেহরানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করা হলে তা শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
শনিবার টেক্সাসে অনুষ্ঠিত রক্ষণশীলদের সম্মেলন ‘কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স’ (সিপিএসি)-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন পাহলভি। বক্তব্যের সময় তিনি ইরানের জনগণকে রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানান এবং দেশকে “মুক্ত” করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। প্রায় ৪৫ বছর পর দেশে ফেরার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি নিজেকে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবেও তুলে ধরছেন। তবে ইরানের বিরোধী শক্তিগুলো এখনো বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্পের এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে পাহলভি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা মানেই একই সংকটকে বারবার আমন্ত্রণ জানানো। তাঁর ভাষায়, “এই শাসনব্যবস্থা প্রতারণা, সময়ক্ষেপণ ও লুটপাটের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তারা কখনোই শান্তির প্রকৃত অংশীদার হতে পারে না।”
অন্যদিকে, ট্রাম্প নিজেও আগে পাহলভির নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে, ইরানের ভেতর থেকে নেতৃত্ব উঠে আসাই বেশি কার্যকর হতে পারে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি, তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় ভাটা- সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কঠিন এক সমীকরণের মুখে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখন তাঁর সামনে দুটি পথ- একটি দুর্বল চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, অথবা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া।
বক্তব্যে পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লাভের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ইরান শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনই আনবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এর আগে জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া পাহলভি আবারও আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “সময় এলে জনগণই তাদের দেশ, সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে তুলে নেবে।”