৪২ কোটির বিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন নেই, উল্টো ব্যবহার হচ্ছে বিদ্যুৎ

চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ বিভাগ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে, এরই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জে ২০১৮ সালে ৪২ কোটি ব্যয়ে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। তবে প্রকল্প কাজ শেষ হওয়ার ছয় বছরেও নেই বিদ্যুৎ উৎপাদন। উল্টো প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে বিদ্যুৎ; উৎপাদন তথ্য নিয়েও চলছে লুকোচুরি।

সিরাজগঞ্জ নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজ রহমান বলেন, 'বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কিনা জানি না।'

উৎপাদন ও সমন্বয় নিয়ে পরে কথা হয় সিরাজগঞ্জ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১)  রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, 'আমি নতুন এসেছি। বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে কিনা জানি না।' 

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মাসুদ জানান, ' প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।' কী পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে? এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর দেননি।

প্রকল্প থেকে কী পরিমাণ বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, আর কী পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে কিংবা কিভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে? জানতে চাইলে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দার বলেন, 'কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। আপনি বগুড়া বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তার কাছে এই তথ্য আছে।'

এ বিষয়ে বগুড়া বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান ভিন্ন কথা। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'আপনাকে সিরাজগঞ্জ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সঠিক তথ্য দেননি। কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে তার তথ্য নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দর দিতে পারবেন।'

একে-অপরের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে ৪২ কোটি টাকার প্রকল্পের তথ্য নিয়ে এভাবে চলছে লুকোচুরি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের মালশাপাড়ায় যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় ঘেঁষে ক্রসবার-৩ (চায়নাবাঁধ -৩) এ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ৪২ কোটি ব্যয়ে বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির  নির্মিত ৮টি টাওয়ার দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু টাওয়ারের পাখাগুলো ঘুরছে না, ফলে বিদ্যুৎও উৎপাদন হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জেলার পৌর এলাকার  (ক্রসবাঁধ-৩) চায়না বাদে যমুনার তীরে নির্মিত বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রেটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে  ব্যস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্প নির্মাণ কাজ পায় প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস লিমিটেড। যাতে ব্যয় ধরা হয়, প্রায় ৪২ কোটি টাকা । ৮টি টাওয়ারের মাধ্যমে ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে টাওয়ারগুলো স্থাপন করা হয়। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশায় বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রেটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতারা

টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বছর শেষে স্থানীয় সরকার ভোট: মির্জা ফখরুল

খাদ্য নিরাপত্তায় কানাডার ১০ বছরের মহাপরিকল্পনা

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা

সীমান্তে বিজিবি’র সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

বাংলাদেশে পুষ্টি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেসলে ও বিসিএসআইআরের, উন্মোচন ‘পুষ্টিগ্রো+’

১০

ঢামেকের জরুরি বিভাগের পাশ থেকে দুই অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

১১

দম্ভের চেয়ে কাণ্ডজ্ঞান থাকা বেশি দরকার, শেষ পর্যন্ত বুঝল মোদি সরকার

১২