ঈদ ঘিরে মাংস-পোলাও চালের দাম বাড়তি, চাপে নিম্নআয়ীরা

সংগৃহীত।

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মুরগি, গরুর মাংস, পোলাওয়ের চাল, শসা-লেবুসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলেও সরবরাহ সেই অনুপাতে না বাড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পণ্যের চাহিদা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে ২১০ থেকে ২৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

গরুর মাংসের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। কোথাও ৬৮০, আবার কোথাও ৮৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দিন আগেও দাম ছিল তুলনামূলক কম, কিন্তু চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়েছে।

ফার্মগেটের এক বিক্রেতা জানান, গরুর মাংসের উচ্চ দামের কারণে অনেক ক্রেতা এখন মুরগির দিকে ঝুঁকছেন। এতে মুরগির বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শেওড়াপাড়ার এক মাংস ব্যবসায়ী বলেন, ঈদ সামনে থাকায় প্রতিদিন গরু জবাইয়ের সংখ্যা বেড়েছে, তবে পাইকারি বাজারেই গরুর দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।

সবজি ও অন্যান্য পণ্যের মধ্যেও বেড়েছে দাম। লেবু এখন প্রতি হালি ৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৩০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

পোলাওয়ের চালের দামও বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাঝারি মানের চাল এখন ১৬০ টাকা এবং নিম্নমানের চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যদিও মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে, তবে চিনি, ডাল ও তেলের দাম এখনো চড়া। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে মশলার দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও আগের তুলনায় বেশ উঁচুতেই রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই ঈদ সামনে রেখে বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ঈদের কেনাকাটার পর হাতে থাকা অল্প টাকায় বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কিনতেই প্রায় সব টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

একই এলাকার এক অটোরিকশাচালক বলেন, সীমিত আয়ের কারণে ঈদে বাড়ি যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দের সময়েও বাড়তি দামের চাপ অনেক পরিবারের জন্য উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমান-শাহবাজ শরিফের টেলিফোনালাপ, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

চট্টগ্রামে ঈদ জামাতে এক কাতারে বিভিন্ন দলের রাজনীতিক নেতা

ভোগব্যয় ও জীবনমান উন্নয়নে ছুটিব্যবস্থায় সংস্কার ভাবনায় চীন

সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পিএসএলে যাচ্ছেন মোস্তাফিজরা

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

ইরান থেকে সরিয়ে আনা ১৮৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন

ঈদ ঘিরে মাংস-পোলাও চালের দাম বাড়তি, চাপে নিম্নআয়ীরা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়াচ্ছে ইউক্রেন

ঈদের প্রথম দিন টিভিতে যা যা দেখা যাবে

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর

১০

আজ ঈদের দিনসহ চার দিন বৃষ্টির আভাস

১১

ঈদের জামাত: কোথায় কখন

১২