শরীরে নানা কারণে আয়রনের শোষণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গিয়ে দেখা দেয় রক্তস্বল্পতা। অনেক সময় শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেলেও মানুষ সেগুলো গুরুত্ব দেন না। ফলে অজান্তেই দীর্ঘদিন রক্তস্বল্পতায় ভুগতে পারেন। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
আয়রনের ঘাটতি হলে শরীরে কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা। শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে সব সময় ক্লান্ত লাগতে পারে এবং সামান্য কাজেও শক্তি কমে যায়। ত্বকও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে যেতে পারে। চোখের ভেতরের পাতা ও মাড়ির রংও অনেক সময় ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া সামান্য হাঁটাচলা বা পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং বুক ধড়ফড় করার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ঘন ঘন মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা দেখা যায়, কারণ মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না।
আয়রনের ঘাটতির আরেকটি লক্ষণ হলো নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া বা চামচের মতো বাঁকা হয়ে পড়া। একই সঙ্গে চুল পড়ার প্রবণতাও বেড়ে যেতে পারে। অনেকের জিহ্বা ফুলে যাওয়া, জিহ্বায় ব্যথা হওয়া বা মুখের কোণে ঘা হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এ ছাড়া হাত ও পা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হতে পারে।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্তের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)- করিয়ে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা জানা জরুরি। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে তাকে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা বলা হয়।
রক্তস্বল্পতা ধরা পড়লে খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে মনে রাখতে হবে, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব বেশি কমে গেলে শুধু আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেই সব সময় সমস্যার সমাধান হয় না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা প্রয়োজনে রক্ত সঞ্চালনেরও প্রয়োজন হতে পারে।
খাদ্যতালিকায় নিয়মিত আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। গাঢ় সবুজ শাকসবজি যেমন পালংশাক ও কলমিশাক, ডাল, কলিজা, খেজুর, আনার বা আনারের রস এবং সবুজ আপেল শরীরে আয়রনের ভালো উৎস। বিভিন্ন ফল একসঙ্গে খেলে শরীর বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিটামিন সি। এটি শরীরে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লেবু বা আমলকীর মতো ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবার খেলে উপকার পাওয়া যায়। ভিটামিন সি না থাকলে আয়রন শোষণ অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় যেমন চা ও কফি আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পরপরই চা বা কফি পান করলে শরীরে আয়রনের শোষণ কমে যায়। তাই রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরপরই এসব পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোই রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ।