মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের বাস আটকে রাখা ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ঢাকা ও সিলেটগামী যানবাহন আটকে দেন হবিগঞ্জের শ্রমিকরা।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
শায়েস্তাগঞ্জে আটকে পড়া ঢাকাগামী যাত্রী তৌহিদ মিয়া বলেন, সকাল ১১টার দিকে বাসযোগে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। শায়েস্তাগঞ্জে আসার পর বাসটি আটকে দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কোনো সমাধান হয়নি।
ঢাকা থেকে আসা সাদেক খান বলেন, দুপুর ১টার মধ্যে সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শায়েস্তাগঞ্জে এসে আটকা পড়েছেন।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজারগামী বাস আটকে দেওয়া, ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের মারধর করে আসছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বাধা দেন মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকরা। পরে মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখা হয় এবং শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।
বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মোটর মালিক গ্রুপের সঙ্গে আলোচনার জন্য সভা আহ্বান করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা এখনো ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছি। পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো যেন নির্বিঘ্নে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।