বিএনপি গণমাধ্যম কমিশন গঠনে আন্তরিক নয় বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ। গণমাধ্যম নিয়ে আপাতত ভালো কিছুর আশা দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারের অঙ্গীকার নিয়ে রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণদের অগ্রাধিকার, উদ্বেগ ও সুপারিশ তুলে ধরার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা ছিল এই গোলটেবিলের মূল লক্ষ্য।
‘Joining Youth in Effective Engagement in Reform Agendas in Bangladesh (JoYEE)’ প্রকল্পের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে নীতিনির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাদের মতামত তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হয়। ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর তরুণদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা ও সমালোচনা করেন বক্তারা।
কামাল আহমেদ বলেন, ‘একটি গঠনমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রাণবন্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। তাই তরুণদের উচিত সংস্কারের দাবি অব্যাহত রাখা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সোচ্চার থাকা।’
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, ‘তরুণদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে বৃহত্তর জনআলোচনায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’ তরুণ ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের প্রত্যাশাগুলো নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রথম আলোর ইংরেজি বিভাগের প্রধান আয়েশা কবির বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দেশের তরুণদের কণ্ঠস্বর উন্মুক্ত আলোচনা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূলধারায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম এক অনন্য সেতু হিসেবে কাজ করে।’ বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ও অনলাইন প্রধান রাজীব খান বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের পেশাদার হতে হবে। ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনকে বিজয় হিসেবে না দেখে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ৫ আগস্টের পর সাংবাদিকরা অতিমাত্রায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন উল্লেখ করে সাগর-রুনি হত্যা মামলার দ্রুত বিচারও দাবি করেন রাজীব খান।
ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ‘তরুণদের অংশগ্রহণ শুধু পরামর্শ গ্রহণ বা প্রতীকী প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।’
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির জন্য একটি ‘পিয়ার গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেসি) মহাসচিব ইলিয়াস হোসেন, উপস্থাপক মাহবুব হাসান ও সাংবাদিক ফারহানা রহমান।
এ ছাড়া আলোচনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, প্রতিবেদকসহ তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের উদ্যম কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
গণমাধ্যমের প্রশাসনিক দায়িত্বে নারী ও আদিবাসী সাংবাদিকদের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে সংস্কার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।