আবহাওয়ার উন্নতি হলে মূল ফোকাস থাকবে পুনর্বাসনে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, কক্সবাজারে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি উপজেলার মধ্যে ৫টি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই দুর্গতদের উদ্ধার এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে মূল ফোকাস থাকবে পুনর্বাসনে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্য খামারি এবং গবাদি পশুর মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগ রয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আজ এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই কক্সবাজারসহ বন্যাকবলিত অন্যান্য জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরো বিস্তৃত ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারে এই সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ৭-৮ দিনে কক্সবাজারে ৮০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে সাধারণত পুরো জুলাই মাসে গড়ে প্রায় ৯০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অল্প সময়ে অস্বাভাবিক এই ভারি বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের বিরূপ আবহাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী এসময় দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের তথ্য ও প্রতিবেদন সরকারের কাছে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চলমান বন্যার পরিস্থিতি, সরকারের সহায়তার অগ্রগতি এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। কোনো বন্যাদুর্গত স্থানে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে তা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম আরো সমন্বিত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধানরা।

এছাড়াও জেলার ১০টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নেন। বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানী থেকে নারীর ৪ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, যা জানা গেল

১

অবশেষে আদালতের বিচারকের মধ্যস্থতায় ছেলের ঘরে ফিরলেন সেই মা

২

চুয়েটে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ঢুকলেন নতুন উপাচার্য

৩

ঢাকায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার

৪

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল, আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁই

৫

রূপপুরে প্রথম ইউনিটের সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

৬

রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনা হবে রিয়াদে নিহতদের মরদেহ

৭

সৌদিতে নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশসহ কোন কোন দেশের নাগরিক আছেন?

৮

বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

৯

‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিকে’ ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ

১০

নারায়ণগঞ্জে এক রাতেই তিন স্থানে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

১১

বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা

১২