জ্বালানি সাশ্রয়ে বাসা থেকে কাজ ও সুষম গতিতে গাড়ি চালানোর আহ্বান আইইএর

ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহারে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সংস্থাটি সরকারগুলোকে নাগরিকদের বাসা থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করা এবং সড়কে সুষম গতিতে গাড়ি চালানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

আইইএ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খরচ কমাতে ১০টি সুপারিশও তুলে ধরেছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেছেন, বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর ও সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ জরুরি, যদিও তা রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

ইতোমধ্যে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে থাইল্যান্ডে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া কিছু দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময় কমানো হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিমান ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তান ও ফিলিপাইনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মদিবস চালু করা হয়েছে।

আইইএর সদস্যসংখ্যা ৩২টি, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপানসহ ইউরোপের বহু দেশ রয়েছে। সংস্থাটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে আইইএ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়েও কিছু করণীয় তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ানো, ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প দিনে চলাচল, কার-শেয়ারিং, দক্ষ ড্রাইভিং অভ্যাস গড়ে তোলা এবং অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ এড়িয়ে চলা। পাশাপাশি রান্নায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, রান্না ও জরুরি কাজে ব্যবহারের জন্য এলপিজি সংরক্ষণ জরুরি। এজন্য কিছু যানবাহন গ্যাসচালিত করা এবং এলপিজির ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

ফাতিহ বিরোল জানান, আইইএর সদস্যদেশগুলো ইতোমধ্যে জরুরি মজুত থেকে ৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা মোট মজুতের ২০ শতাংশ। প্রয়োজন হলে আরও তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট ১৯৭০–এর সংকটের চেয়েও গভীর। এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির চেয়েও এটি বড় আকার ধারণ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কম থাকবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তেলক্ষেত্র, রিফাইনারি ও পাইপলাইনসহ জ্বালানি অবকাঠামো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা, প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

ছোটবেলার মতো ঈদের আনন্দ বড় হলে পাওয়া যায় না : জায়েদ খান

যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

স্বয়ংক্রিয় রেলগেট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে সড়কে ঝরল ১৯ প্রাণ

হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ ভ্যান সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৪

ইরানের তেল বিক্রিতে ৩০ দিনের ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধ পরিবেশে বিপর্যয় ডেকে আনছে

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আড়াই হাজার বন্দির ঈদ উদযাপন

আইপিএলের এবারের আসরই ধোনির শেষ হতে পারে: উথাপ্পা

১০

হরমুজ প্রণালি খুলতে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিলেন ট্রাম্প

১১

জ্বালানি সাশ্রয়ে বাসা থেকে কাজ ও সুষম গতিতে গাড়ি চালানোর আহ্বান আইইএর

১২