কমবেশি সবার মাথাব্যথার সমস্যা রয়েছে। কাজের চাপ, কম ঘুম, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার, পানিশূন্যতা এসবকেই আমরা সাধারণত দায়ী করি। কিন্তু অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না মাথাব্যথার ধরনে পরিবর্তন এসেছা র সমস্যার পেছনে কোনও রোগও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কিছু পরিবর্তন কখনও কখনও ব্রেন টিউমারের সতর্কবার্তা হতে পারে।
আজ বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস। প্রতিবছরের ৮ জুন ব্রেন টিউমার দিবস পালন করা হয় আর এইদিনটি কেন্দ্র করে সচেতন করেছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, ব্রেন টিউমারের অনেক লক্ষণই শুরুতে এতটাই সাধারণ মনে হয় যে মানুষ মাসের পর মাস সেগুলো উপেক্ষা করে যায়।
ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট ডা. নেহা পাণ্ডিতা বলেন, বেশিরভাগ মাথাব্যথাই ক্ষতিকর নয়। তবে এমন মাথাব্যথা, যা ধীরে ধীরে ঘন ঘন হতে শুরু করে বা তীব্রতা বাড়তে থাকে, সেটিকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তার মতে, কিছু সতর্ক সংকেত হলো—
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা
মাথাব্যথার কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া
বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে মাথাব্যথা হওয়া
আগের তুলনায় ব্যথার ধরন বদলে যাওয়া
ডা. নেহা জানান, মাথাব্যথা মানেই ব্রেন টিউমার নয়। কিন্তু মাথাব্যথার স্বাভাবিক প্যাটার্নে পরিবর্তন এলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
যেসব লক্ষণকে সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান অনেকেই
ব্রেন টিউমারের লক্ষণ শুধু মাথাব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেকের ঝাপসা দেখা, দ্বৈত দৃষ্টি, শুনতে সমস্যা হওয়া, মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আবার কারও হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব, কথা বলতে সমস্যা কিংবা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা যায়। এসব পরিবর্তন ধীরে ধীরে হওয়ায় অনেকেই এগুলোকে ক্লান্তি বা বয়সজনিত সমস্যা বলে ধরে নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ব্রেন টিউমার মানুষের আচরণ ও ব্যক্তিত্বেও প্রভাব ফেলতে পারে। হঠাৎ অকারণে খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগ কমে যাওয়া, সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হওয়া কিংবা ব্যক্তিত্বে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। অনেক সময় পরিবারের সদস্যরাই প্রথম এসব পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।
ইয়থার্থ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও নিউরোলজি বিভাগের গ্রুপ ডিরেক্টর ডা. কুনাল বাহরানি বলেন, আগে কখনও খিঁচুনি না হওয়া কোনও ব্যক্তির হঠাৎ খিঁচুনি শুরু হলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি, এমনকি যদি খিঁচুনি মাত্র একবারও হয়ে থাকে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি বা দুটি উপসর্গ থাকলেই যে কারও ব্রেন টিউমার হয়েছে, এমন নয়। এসব লক্ষণের পেছনে আরও অনেক সাধারণ কারণ থাকতে পারে। তবে যদি উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকে, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসার ফলও অনেক ভালো হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, মাথাব্যথা হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নিজের শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। মাথাব্যথা যদি আগের চেয়ে ভিন্ন মনে হয় বা এর সঙ্গে অন্য কোনো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তা অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়াই ভালো। কারণ অনেক সময় শরীরই আগে থেকে জানিয়ে দেয়, ভেতরে কোনও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।