মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের সনদ যাচাই করতে গিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতির তথ্য পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৮ হাজার জনের সনদ ও তথ্য সন্দেহজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাইয়ে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৭-৮ জনের তথ্যে গরমিল বা অসত্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ভুয়া সনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফারুক–ই–আজম এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেন। তবে এখনো যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যে ভুল থাকায় পুনরায় তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে, ফলে সময় বেশি লাগছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক যাচাই শেষ হলেও এখন পরিবীক্ষণ চলছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার ৫২৭ জন চাকরি করছেন, যেখানে মোট সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাঁদের সনদ ভুয়া প্রমাণিত হবে, তাঁদের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে সরাসরি চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা এই মন্ত্রণালয়ের নেই। এ সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
এদিকে, অতীতে ভুয়া সনদের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও রয়েছে। যেমন, কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে কারাগারে আছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তালিকা প্রকাশ করা না হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে না। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, রাজনৈতিক চাপের কারণে এ ধরনের তালিকা অনেক সময় প্রকাশ পায় না। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে ভুয়া সনদধারীদের নাম প্রকাশ করা জরুরি।