ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের পর এবার বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচেও দেখা গেল ‘নো হ্যান্ডশেক’। জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচে টসের সময় একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি বাংলাদেশের অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার ও ভারতের অধিনায়ক আয়ুশ মাহাত্রে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে জিতে বাংলাদেশ ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। তবে টস অনুষ্ঠানে দুই অধিনায়ককে একে অপরকে এড়িয়ে যেতে দেখা যায়। তবে কোন দলের সিদ্ধান্তে হাত মেলানোর রীতি মানা হয়নি, তা স্পষ্ট নয়।
চলতি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে একই গ্রুপে খেলছে বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দুই দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছে।
ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সব ম্যাচই রাখা হয়েছে ভারতের ভেন্যুতে।
এরই মধ্যে উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল অংশগ্রহণ বাতিল হওয়ায় ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইসিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক দলের ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’-এও ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তন বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি আইসিসি।
এমন পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশ–ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ ম্যাচে অধিনায়কদের হাত না মেলানোর ঘটনা নজরে আসে। যদিও ‘হ্যান্ডশেক’ কোনও বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়, তবে খেলাধুলায় এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত সৌজন্য রীতি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে টসের সময় ও ম্যাচ শেষে হাত না মেলার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। সে সময় ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সংবাদ সম্মেলনে ভারত–পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এশিয়া কাপে দুই দলের তিন ম্যাচেই ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাত মেলানো হয়নি।