রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে সোমবার (৫ জানুয়ারি) শুরু হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের লাশ শনাক্তকরণ কার্যক্রমের ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।
তিনি বলেন, রায়েরবাজার কবরস্থানে ১১৪ মরদেহ উত্তোলন করে আবেদনকারী ৯টি পরিবারের মধ্যে আটজনের ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করেছে সিআইডি। পরিচয় শনাক্তের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের স্বজনরা।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আটজন হলেন- ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার মো. মাহিন মিয়া (২৫), শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার আসাদুল্লাহ, চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বারোহাটিয়া গ্রামের পারভেজ বেপারী, পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার সাতকাছিনা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার সোহেল রানা, ফেনীর রফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফয়সাল সরকার এবং ঢাকার মুগদার কাবিল হোসেন (৫৮)।
সিআইডি জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে এরই মধ্যে আটজন অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।