সুপার এইটের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হলেও জয় পেলে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ইংলিশরা।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখতে হবে পাকিস্তানকে। কারণ বিশ্ব আসরে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে হারাতে পারেনি ম্যান ইন গ্রিনরা। পাল্লেকেলের পয়া ভেন্যুতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বড় কোনো দলকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে পরাজয়ের পর সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে তাদের। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিসংখ্যানও পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলছে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল, তিনবারই জিতেছে ইংল্যান্ড। তাই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেই মাঠে নামতে চায় পাকিস্তান।
পাকিস্তানের ক্রিকেটার সাহিবজাদা ফারহান বলেন, বিশ্বকাপে এখনো ইংল্যান্ডকে হারাতে না পারাটা সত্যি, তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগে থেকে ফল নিশ্চিত করে বলা যায় না। দলের ছেলেরা আত্মবিশ্বাসী বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে পাল্লেকেলের মাঠ যেন ইংল্যান্ডের জন্য সৌভাগ্যের। চলতি বছরে এখানে চার ম্যাচ খেলে শতভাগ জয় পেয়েছে তারা।
উইকেটের কন্ডিশনও তাদের বেশ চেনা। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত অধিনায়ক জস বাটলার ও হেরি ব্রুকরা।
ইংল্যান্ডের স্পিনার লিয়াম ডসন বলেন, পাকিস্তান অবশ্যই শক্তিশালী দল এবং তাদের দলে ভয়ংকর কিছু ক্রিকেটার রয়েছে, যার মধ্যে উসমান তারিক অন্যতম। তবে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে ইংল্যান্ড।
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী ছন্দ খুঁজে পায়নি। সাহিবজাদা ফারহান ছাড়া অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
একাদশে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম থাকলেও ব্যাটিং অর্ডারে চমক থাকতে পারে। ফারহান স্বীকার করেছেন, ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ আছে, তবে বোলিং বিভাগ নিয়ে তারা সন্তুষ্ট এবং মাঠে তার প্রতিফলন দেখতে চান।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসও ইতিবাচক। ম্যাচের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, ফলে পূর্ণ ম্যাচ হওয়ার আশা করছেন সমর্থকেরা।
গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচে তিন জয় ও এক হারে ছয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থান দখল করে সুপার এইটে উঠেছে পাকিস্তান। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস হলেও বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয় এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় দুই দলকে।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সামগ্রিক পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ডই এগিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১ ম্যাচে ২০টিতে জয় পেয়েছে ইংলিশরা, পাকিস্তানের জয় ৯টিতে। একটি ম্যাচ টাই এবং একটি পরিত্যক্ত হয়েছে। ২০১৫ সালে শারজাহতে টাই হওয়া ম্যাচটি সুপার ওভারে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
সবশেষ ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মেলবোর্নে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড। তাই ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের চাপ মাথায় নিয়েই আজ মাঠে নামবে পাকিস্তান, আর ইংল্যান্ড চাইবে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।